• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 29 August, 2026

কার্সিয়াং মডেলের অনুকরণ! বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ রাজ্য বন দপ্তরের

বনকর্মীর ঘাটতি কিংবা রাতে গ্রামবাসীদের খবর পৌঁছতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যাগুলিকে পুরোপুরি দূর করেছে এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা। বিগত ছয় মাসে এই আধুনিক ব্যবস্থার সাহায্যে ৫০টিরও বেশি সম্ভাব্য হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি বন দপ্তরের।

কার্সিয়াং মডেলের অনুকরণ! বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ রাজ্য বন দপ্তরের

Photo: Statesman

কার্সিয়াং মডেলের দেখা মিলবে এবার রাজ্যের সমস্ত বনাঞ্চলে। হাতি এবং মানুষের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য বন দপ্তর। কার্সিয়াং ফরেস্ট ডিভিশনে সিসিটিভি ক্যামেরার আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সাফল্য এনে দিয়েছে। তা দেখে এবার রাজ্যের সমস্ত বনাঞ্চলে এই মডেল চালুর পরিকল্পনা করছেন বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। জঙ্গলের অভ্যন্তরে সৌরবিদ্যুৎচালিত ক্যামেরা বসিয়ে হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার এই উদ্যোগ বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

সম্প্রতি কার্সিয়াং ডিভিশনের বনাঞ্চল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার বাগডোগরা রেঞ্জের বিশেষ কন্ট্রোল রুমটি ঘুরে দেখেন বনমন্ত্রী। সেখানে কীভাবে রিয়েল-টাইমে নজরদারি চালিয়ে সংঘাত রোধ করা হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য ও রিপোর্ট দেখে তিনি রীতিমতো অভিভূত হন। জানা গিয়েছে, কার্সিয়াং জুড়ে বাগডোগরা, পানিঘাটা, টুকরিয়া-সহ নানা স্পর্শকাতর করিডোরগুলিতে ইতিমধ্যে ৬০টিরও বেশি সৌরবিদ্যুৎচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলি ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। সেই সঙ্গে জঙ্গল থেকে হাতির দল লোকালয়ের অভিমুখে রওনা হলেই কন্ট্রোল রুমে বসে থাকা কর্মীরা তা দেখতে পান।

সেই বার্তা পাওয়া মাত্রই কন্ট্রোল রুম থেকে স্থানীয় রেঞ্জ অফিসার ও বনকর্মীদের কাছে দ্রুত খবর পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে হাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করার আগেই বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বনকর্মীর ঘাটতি কিংবা রাতে গ্রামবাসীদের খবর পৌঁছতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যাগুলিকে পুরোপুরি দূর করেছে এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা। বিগত ছয় মাসে এই আধুনিক ব্যবস্থার সাহায্যে ৫০টিরও বেশি সম্ভাব্য হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি বন দপ্তরের।

আরও পড়ুন: পানীয় জল-কর্মসংস্থানের দাবি, বিধায়কের দ্বারস্থ অন্ডাল গ্রামের বাসিন্দারা

কার্সিয়াংয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখার পর বনমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রতিটি বনাঞ্চলেই কার্সিয়াংয়ের মতো সিসিটিভি ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুমের সমন্বয়ে শক্তিশালী নজরদারি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে। এতে শুধু যে হাতি ও মানুষের সংঘাত কমবে তা-ই নয়, জঙ্গলে অসামাজিক কার্যকলাপ ও দুষ্কৃতীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও এটি কার্যকর ভূমিকা নেবে। প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের এই সফল যৌথ প্রয়োগ আগামী দিনে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে রাজ্যের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে।