• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 29 August, 2026

পিছিয়ে পড়েও জয়ের মুখ দেখল মোহনবাগান

 কলকাতা ফুটবল লিগে সুপার সিক্সে খেলার ছাড়পত্র পাকা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে জয় ছাড়া অন্য কোনও ভাবনা নেই।

পিছিয়ে পড়েও জয়ের মুখ দেখল মোহনবাগান

MOHUN BAGAN

 কলকাতা ফুটবল লিগে সুপার সিক্সে খেলার ছাড়পত্র পাকা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে জয় ছাড়া অন্য কোনও ভাবনা নেই। ডুরান্ড কাপ ফুটবলের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে যাওয়ার পরে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা ভেঙে পড়েছিলেন। হয়তো সেই কারণেই মাঠে এখনও মোহনবাগানের খেলা দেখার জন্য গ্যালারিতে সমর্থকদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। কোচ বাস্তব রায়ের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ডুরান্ডের আগে বেশ কয়েকটি ম্যাচে যেভাবে দল পয়েন্ট নষ্টের খেলায় ব্যস্ত ছিল, সেই বিষয়ে। কিন্তু গত ম্যাচে জর্জ টেলিগ্রাফকে হাফডজন গোল দিয়ে মোহনবাগান সুপার সিক্সে খেলার পথটা অনেকটাই পরিষ্কার করে ফেলেছে। তারপরে শনিবার ঘরের মাঠে মোহনবাগান লড়াই করতে নামে রেলওয়ে এফসি-র বিরুদ্ধে। একটা সময় রেলওয়ে এফসির ফুটবলাররা মোহনবাগানকে চাপে রেখে দিতেন। তাই রেলওয়ে এফসির সঙ্গে লড়াই করাটা সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের কাছে বেশ চাপে ছিল। এদিন রেলওয়ে এফসি এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেনি। মোহনবাগান ৩-১ গোলে রেলওয়ে এফসিকে হারিয়ে  মাঠ ছাড়ে।

রেলওয়ে এফসির ফুটবলাররা প্রথম থেকেই রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়ে খেলতে থাকেন। সেই রক্ষণভাগ ভাঙতে মোহনবাগানের ফুটবলারদের কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়। মোহনবাগানের হয়ে সিনিয়র দলের দুই ফুটবলার মনবীর সিং ও সাহাল আবদুল সামাদের সঙ্গে খেলতে দেখা গেল অ্যালেক্স সাজি ও কিয়ান নাসিরিকে। কিন্তু রেলওয়ের দুই ডিফেন্ডার সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক মাণ্ডিকে টপকে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে খেলার সাত মিনিটের মাথায় মনবীর সিংয়ের কাছে যে বলটা এসেছিল মাঝমাঠ থেকে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরের মিনিটেই রেলওয়ে এফসির সজল বাগ গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বল মাঠের বাইরে চলে যায়। খেলার ১৪ মিনিটের মাথায় কিয়ান নাসিরির শট রেলওয়ে এফসির শট সুদীপ্ত ব্যানার্জি নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেন। খেলার ৪১ মিনিটে অধিনায়ক অভিষেক আইচের কাছ থেকে বল পেয়ে উমেশ মারান্ডি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত গোল করে রেলওয়ে দলকে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়া মোহনবাগান খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনার জন্য আক্রমণে ছক পরিবর্তন করে। কিন্তু বিরতির ঠিক আগেই পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। স্পটকিক থেকে গোল করে মনবীর খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। তবে বিরতির আগে খেলার ফলাফলে আর কোনও পরিবর্তন হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ দেখিয়েছে মোহনবাগানকে। ৪৭ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের শট ক্রসপিসে লেগে প্রতিহত হয়। ফিরতি বলেও সুযোগ নষ্ট করে তারা। ৫০ মিনিটে সন্দীপ মালিকের শট আটকান রেলওয়ে গোলকিপার। ৫৩ মিনিটে কিয়ানের দুরন্ত পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান (২-১) রবিলাল মাণ্ডি। পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি রেলওয়ে। ৫৫ মিনিটে তারক হেমব্রম গোল করার মতো দারুণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু গোল আসেনি। ৬৩ মিনিটে  সুদীপ্তকে কাটিয়েও গোলের দরজা করতে পারেননি মনবীর। পরের মিনিটে তারক হেমব্রমের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে সমতা ফেরাতে পারত রেলওয়ে। ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে দুজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে দুরন্ত হেডে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন পরিবর্ত ফুটবলার সুহেল ভাট। মোহনবাগান ৩-১ গোলে জিতলেও দ্বিতীয় পর্বে যেভাবে গোলের সুযোগ পেয়েছিল, তা থেকে গোল হলে বড় ব্যবধানেও জিততে পারত তারা। রেলওয়ে এফসিকে হারিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানেই থাকল মোহনবাগান। ১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভবানীপুর। আর আট ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। আর ইউনাইটেড কলকাতা ১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

এদিন অন্য খেলায় ভবানীপুর ২-০ গোলে পাঠচক্রকে হারিয়ে দিয়েছে। বেহালা এসএস স্পোর্টিং ক্লাব ও কালীঘাট মিলন সংঘের খেলাটি গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। জর্জ টেলিগ্রাফ ১-০ গোলে জয় পেয়েছে বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল স্পোর্টস অ্যাকাডেমির বিরুদ্ধে।