• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 27 August, 2026

ফের সংসদ অধিবেশনের ইঙ্গিত কিরেন রিজিজুর, অমীমাংসিত বিলগুলো ফিরিয়ে আনার জল্পনা জোরালো

সরকার যে বিলগুলি বাদল অধিবেশনে পাশ করাতে চেয়েছিল বলে মনে করা হয়েছিল, সেগুলো পাশ করানো সম্ভব হয়নি। সেই আবহেই অধিবেশন সমাপ্তির বিজ্ঞপ্তি এখনও না আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।

ফের সংসদ অধিবেশনের ইঙ্গিত কিরেন রিজিজুর, অমীমাংসিত বিলগুলো ফিরিয়ে আনার জল্পনা জোরালো

Image: FB/SuvenduWB

অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করা হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি সংসদের বাদল অধিবেশন। গত ১৩ আগস্ট লোকসভা ও রাজ্যসভা মুলতুবি হওয়ার পর প্রায় দু’সপ্তাহ কেটে গেলেও অধিবেশন সমাপ্তির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ফের সংসদ বসার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। তার মধ্যেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু বাদল অধিবেশন স্থগিত করা হয়নি, তাই সংসদ অধিবেশন আবার আহ্বান করা যেতে পারে।’ তাঁর এই মন্তব্যের এই জল্পনা জোরালো হয়েছে যে, সরকার চলতি অধিবেশনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিলগুলো ফিরিয়ে আনতে পারেন। তবে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

এক সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজিজুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আবার কোনও অধিবেশন বা বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না। সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত সরকারের। সরকার রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ করলেই অধিবেশন ডাকা যায়। আর কোনও অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা না হলে, সেই অধিবেশনেই ফের সংসদ বসতে পারে। বিশেষ অধিবেশন হচ্ছে কি না জানতে চাওয়া হলে তাঁর জবাব, না। আমি এর উত্তর দেব না।’

তাঁর এই মন্তব্যের অর্থ কীভাবে নেওয়া হবে সেই প্রশ্ন করা হলে রিজিজু বলেন, ‘দু’ভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারেন।’ রিজিজুর বক্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বাদল অধিবেশনেই ফের সংসদের অধিবেশন আহ্বানের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র? কারণ সাধারণত কোনও অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এবার সেই প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক দেরি হয়েছে।

বাজেট অধিবেশন গত ১৮ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর ২০ এপ্রিল তা আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের সুপারিশে রাষ্ট্রপতিই সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও সমাপ্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এই পরিস্থিতির জন্য মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন। বাদল অধিবেশনে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হতে পারে বলে জল্পনা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এর আগে এপ্রিলের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনেও ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে বিলগুলি আটকে যায়।

কেন্দ্র দ্রুত ডিলিমিটেশন আইন পাশ করাতে চাইছে বলে জল্পনা রয়েছে। কারণ ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর করতে হলে তার আগে আইন পাশ, ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন এবং দেশজুড়ে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস, গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তবে সেটি সময়সাপেক্ষ। তাই ফের সংসদ বসিয়ে ওই বিলগুলি পেশ বা পাশ করানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছেন বিরোধীরা।

বাদল অধিবেশনের শেষ পর্বেও বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ ও বিরোধিতার কারণে সংসদের কাজ ব্যাহত হয়েছিল। সরকার যে বিলগুলি বাদল অধিবেশনে পাশ করাতে চেয়েছিল বলে মনে করা হয়েছিল, সেগুলো পাশ করানো সম্ভব হয়নি। সেই আবহেই অধিবেশন সমাপ্তির বিজ্ঞপ্তি এখনও না আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।

আরও পড়়ুন: সন্দীপের জামিন নিয়ে সিবিআইয়ের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট 

রিজিজু অবশ্য বিশেষ অধিবেশনের সম্ভাবনা স্বীকার করেননি। বরং সংসদের ইতিহাসের নজির তুলে তিনি জানান, ১৯৫২ সাল থেকে বহুবার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি। পরে সেই একই অধিবেশন ফের বসেছে। তাঁর কথায়, ‘সরকার চাইলে এবারও তেমন হতে পারে।’ ফলে ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।