তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ ঘাসফুল ত্যাগ করে এনসিপিআই দলে যোগ দেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা এনডিএ’কে সমর্থন করবেন বলে ঘোষণা করে দেন। তারপর প্রাতঃরাশ থেকে শুরু করে নৈশভোজ বেশ চলছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করা, ছবি তোলা, ভোজনে অংশ নেওয়া সবই দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু এসবে এখন বাধ সেধেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ২০ জন সাংসদকে নোটিস দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আর তারপরই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরও তাঁদের নোটিস পাঠিয়েছে। সময় দিয়েছেন একসপ্তাহ। এই সাঁড়াশি চাপের মধ্যে এবার তাঁদের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
এই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলা জেরেই এখন চাপে পড়ে গিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। আইন অনুযায়ী পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে সব ঠিক থাকলে এই ২০ জন সাংসদের সাংসদ পদ খারিজ হবে। সুতরাং তাঁদের রাজনৈতিক কেরিয়ার জোর ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এটা এক ধরনের আঞ্চলিক পার্টি। পার্টির জন্মই হয়নি! কেউ জামা পরে নিয়েছেন দলের। কেউ নামই জানত না। এভাবে রাজনীতি হয় না।’ খোদ দিলীপ ঘোষই যদি ওই ২০ জন সাংসদকে ঝেড়ে ফেলে দিতে চায় তাহলে কেন্দ্রের ভূমিকা কেমন হবে সেটা সহজেই অনুমেয়।
ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে এমন একটা অখ্যাত দলে নাম লিখিয়েছিলেন ২০ জন সাংসদ। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে কেন্দ্রের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে আখেরে খুব একটা লাভ হয়নি বিজেপির। কারণ এদের সমর্থন নিয়েও বিল পাশ করানো সহজ হয়নি। বাদল অধিবেশনে একের পর এক বিল ঠাণ্ডা ঘরে পাঠাতে হয়েছে। বিজেপির এতে বিরাট কোনও লাভ হয়নি। সেখানে এবার সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘সাময়িকভাবে মুখ রক্ষার জন্য তাঁরা হয়তো একটা আশ্রয় নিয়েছেন। এই রাজনীতি থেকে দেশের কোনও লাভ হবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থে এরকম পার্টি কেউ তৈরি করছেন। আর অন্য কেউ ছাতার তলায় দাঁড়াচ্ছেন। আমার মনে হয় না, এটি দেশের রাজনীতির কোনও লাভ হবে।’
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী দেশের কোনও লাভ হবে না। সুতরাং এই ২০ জন সাংসদের ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাচ্ছে তা একপ্রকার নিশ্চিত। এখন এই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরেও আসতে পারবেন না। কয়েকজন আসতে পারেন বলে সূত্রের খবর। যাঁরা এই মওকায় এনসিপিআই ছেড়ে চলে আসতে পারবেন বা তৃণমূল নিয়ে নেবে তাঁরা সাংসদ থেকে যাবেন। বাকিদের কী হবে সেটা নিয়ে কেউ ভাবতে নারাজ। দিলীপ ঘোষের কথা তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেল।




