নেপালে রাসুওয়াগাড়ি-কেরুং সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের (Nepal Flash Flood) আগে চিন (China) সময়মতো কোনও সতর্কবার্তা দেয়নি-এমন অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিল চিন(China) । নেপালে অবস্থিত চিনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিরকর’। অভিযোগগুলিকে ‘ভুয়ো খবর’ বলেও দাবি করা হয়েছে চিনের তরফে।
নেপালে মূলত দু’টি অভিযোগ উঠেছিল। প্রথমত, চিন (China) সময়মতো নেপালকে বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দেয়নি, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগ, চিনের ভূখণ্ডে কোনও ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের জেরে একটি বাঁধ ভেঙে যায় এবং সেই জল নেমে এসে নেপালের বড় ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে(Nepal Flash Flood)। চিনা দূতাবাস দু’টি অভিযোগই সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্প নয়, তুষারধস থেকেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান! মৃত বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ কমপক্ষে ৭৫০
তবে নেপালের সরকারি পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক রিপোর্টেও চিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সমর্থন মেলেনি। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। তার জেরে তুষারধস বা হিমবাহধস হয়। সেখান থেকেই হড়পা বান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। নেপালে দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছেন, উপগ্রহচিত্রে রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে একটি হিমবাহ সংলগ্ন পাথরের ধকের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। সেই ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও ধ্বাংসাবশেষ লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে (Nepal Flash Flood)। এর জেরেই আচমকা ভয়াবহ জলস্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়(Nepal Flash Flood)।
মৃতের সংখ্যা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হড়পা বানের জেরে নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার একাধিক জনপদ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নেপালে কমপক্ষে ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। চিনেও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ। দুর্গত এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার ও তল্লাশি কাজ।
আরও পড়ুন: জলের তোড়ে ভেসে গেল বন্ধুত্বের সাঁকো, সময় থাকতেও কি চিন সতর্ক করল না নেপালকে? জমাট রহস্য
বিপর্যয়ের জেরে নেপালে ছটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাসুওয়াগাড়ি, চিলিমে এবং ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। বহু রাস্তা, সেতু এবং সীমান্ত সংযোগ ব্যবস্থাও ভেসে গিয়েছে।
চিনের গিরং বন্দর এলাকাতেও হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) প্রভাব পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন পরিকাঠামো। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। নেপাল ও চিন (China) -দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেই একাধিক সেতু, রাস্তা ও সীমান্ত চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। চিনের (China) বিরুদ্ধে আগাম সতর্কবার্তা গোপন করা বা বাঁধ ভেঙে নেপালে বন্যা তৈরি হওয়ার অভিযোগ আপাতত সরাসরি অস্বীকার করেছে বেজিং(China) ।
দেখুন: বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল, ১০৫ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ, সাহায্যে জরুরি হেল্পলাইন




