• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 26 August, 2026

ভুয়ো নথি ও সংস্থার মাধ্যমে ৫৫৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ, শুরু তদন্ত

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিসে আয়কর দপ্তরের হানা দিতেই বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ সামনে এল। কাঁকুড়গাছির

ভুয়ো নথি ও সংস্থার মাধ্যমে ৫৫৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ, শুরু তদন্ত

Lalbazar Photo-SNS

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিসে আয়কর দপ্তরের হানা দিতেই বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ সামনে এল। কাঁকুড়গাছির কাদাপাড়া এলাকার এক সিএ ফার্মে আয়কর অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া একাধিক নথি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ভুয়ো শংসাপত্রের মাধ্যমে ৫৫৫ কোটি টাকারও বেশি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ভাই-বোনের বিরুদ্ধে ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা ফুলবাগান থানা এলাকার কাঁকুড়গাছির কাদাপাড়া অঞ্চলের এক সিএ ফার্মে হানা দেন। তল্লাশি চালিয়ে অফিস থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেন আয়কর আধিকারিকরা। এর মধ্যে ছিল একাধিক শংসাপত্র, যেগুলির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

প্রাথমিক পরীক্ষায় আয়কর কর্তাদের সন্দেহ, উদ্ধার হওয়া শংসাপত্রগুলি ভুয়ো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অস্তিত্ব নেই এমন কয়েকটি ভুয়ো শেল সংস্থার লেনদেন দেখিয়ে ওই শংসাপত্রগুলি তৈরি করা হয়েছিল। সেই নথির ভিত্তিতেই বিদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

বিষয়টি সামনে আসার পর ওই সিএ ফার্মের দুই মালিক, ভাই ও বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন আয়কর আধিকারিকরা। প্রাথমিক অনুমান, আয়কর দপ্তরের অভিযোগে বলা হয়েছে ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৫৫৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৫১ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
আয়কর আধিকারিকদের আরও অভিযোগ, এই বিপুল টাকা বিদেশে পাচারের নেপথ্যে শুধু ওই দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নন, একটি বড় চক্রও সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যরা অভিযুক্ত ভাই-বোনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন ভাবে টাকা পাচারে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার তদন্তে এক আয়কর আধিকারিক ফুলবাগান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত দুই ভাই-বোনকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বিষ

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কড়েয়া থানা এলাকাতেও প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছিল। এবার ফুলবাগান থানা এলাকায় ৫৫৫ কোটিরও বেশি টাকা পাচারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, টাকার উৎস এবং কোন পথে তা বিদেশে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার(অপরাধদমন) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। সেই সঙ্গে আরও জানিয়েছেন এই দুই মামলা গোয়েন্দা বিভাগ নিজেদের হাতে নিয়েছে।