পাসিন্দু সূরিয়াবন্দরার ৯২ রানের দুরন্ত ইনিংসের সুবাদে কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৯ রান তুলল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এই রান তুলতে তাদের হারাতে হয় ছয় ব্যাটারকে। ফলো-অন করার পর ব্যাট করতে নেমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
বুধবার দিনের শেষে তারা ভারতের চেয়ে ১৬ রানে এগিয়ে। হাতে মাত্র চার উইকেট। শেষ পর্যন্ত কত রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস শেষ করবে তারা, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন ভারত সেই রান তুলে এই টেস্ট জিততে পারবে কি না। মনে রাখতে হবে বৃহস্পতিবারই টেস্টের শেষ দিন। শেষ দিনের খেলা যে বেশ জমে গেল, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ রানে অলআউট করে ভারত ২১৩ রানের বিশাল লিড পেয়েছিল। তার আগে ভারত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫০৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ভারতের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৫২ রানে ৩টি এবং মানব সুতার ৮৫ রানে ৩টি উইকেট নেন। সারাংশ জৈন ৬৯ রানে ২টি উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম উইকেটের স্বাদ পান। শ্রীলঙ্কার হয়ে সোনাল দিনুশা শতরান করার পরেই তাদের প্রথম ইনিংস শেষ হয়।
বৃষ্টির আতঙ্ক সামলে এ দিনের খেলা শুরু হতেই শ্রীলঙ্কার লেজ গুটিয়ে দেয় ভারত। দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ রানে অলআউট করে ২১৩ রানের লিড নেয় শুভমান গিলের দল। প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। মহম্মদ সিরাজের বলে লাহিরু উদারা ৩ রানে আউট হন। জাদেজার বলে ফেরেন কামিল মিশারা (৩২)। শুরুর এই ধাক্কা সামলে নেন পাসিন্দু ও কামিন্দু মেন্ডিস। তাঁদের ১১৫ রানের পার্চনারশিপই শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে আসে। পাসিন্দু দশটি চার ও একটি ছয় হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও, একশো থেকে মাত্র আট রান দূরে থাকা অবস্থায় মানব সুথারের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান। অন্যদিকে কামিন্দু দুটি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি মেরে ৫৫ রান তোলেন।
WHAT A CATCH BY SKIPPER SHUBMAN GILL – Superman 🤯🔥 pic.twitter.com/mgIBBbtM8J
— Johns. (@CricCrazyJohns) August 26, 2026
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার একটি শর্ট বল সুইপ করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন মেন্ডিস। স্কোয়্যার লেগ থেকে দৌড়ে পিছনে ছুটে গিয়ে শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন শুভমান গিল। কঠিন সেই ক্যাচ নেওয়ার সময় তাঁর ক্ষিপ্রতা ছিল দেখার মতো।
কামিন্দু ফিরে যান ১৭৮-এ, দল ৩৫ রানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায়। তিনি চলে যাওয়ার পর অধিনায়ক ধনঞ্জয় ক্রিজে এসে ২৩ রান করে মানব সুথারের বলে গালিতে পাডিক্কালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। নিরোশন ডিকওয়েলাকে এলবিডব্লু-র ফাঁদে ফেলেন সারাংশ জৈন। অভিষেক টেস্টে তিনটি উইকেটে পেয়ে গেলেন তিনি।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ন সোনাল দিনুশা সাত রানে ও কেশরা নুয়ান্থা আপাতত ভারতের জয়ের আশায় জল ঢালার উদ্দেশ্যে নিয়ে লড়ছেন। বৃহস্পতিবার সেই লক্ষ্য নিয়েই নামবেন তাঁরা। আর ভারতীয় বোলারদের লক্ষ্য হবে যথাসম্ভব দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেওয়া।
তৃতীয় দিনের শেষে ২৬৫/৮-এ থেমেছিল শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস। চতুর্থ দিন সকালে দিনুশা অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান। ১৪৭ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। চলতি সিরিজে এটি তাঁর দ্বিতীয় শতরান। তাঁর সেঞ্চুরির পরেও শ্রীলঙ্কার সামনে ফলো-অন এড়ানোর রাস্তা খোলেনি। সারাংশ জৈনের বলে লাহিরু কুমারা ১২ রানে আউট হন। এরপর দিনুশাকেও ১০৩ রানে ফেরান সারাংশ। শ্রীলঙ্কা থামে ২৯০ রানে। ২১৩ রানে পিছিয়ে থেকেই ফের ব্যাট করতে নামতে হয় তাদের।
এদিকে ম্যাচ শুরুর আগে আলোচনায় ছিল ঋষভ পন্থের চোটও। কাঁধে চোট পাওয়ার পর তৃতীয় দিন তিনি উইকেটকিপিং করেননি। তাঁর জায়গায় গ্লাভস হাতে ছিলেন জুরেল। ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল জানিয়েছিলেন, পন্থের চোটের জায়গাটি বেশ ফুলে রয়েছে এবং নড়াচড়াতেও কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। তবে চতুর্থ দিন তিনি উইকেটের পিছনে ফেরেন।
তৃতীয় দিন পর্যন্ত ভারতই চালকের আসনে থাকলেও চতুর্থ দিনের পর এই টেস্ট এখন বেশ আকর্ষণীয় জায়গায় চলে গিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়াই ছিল গিলদের লক্ষ্য। তবে তা সম্ভব হয়নি। এখন ফের ব্যাট করতে নেমে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছনোই হবে ভারতের চ্যালেঞ্জ। তবে কলম্বোর আবহাওয়াও এখন ভারতের প্রতিপক্ষ। শেষ দিনেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।




