হাওলা কারবারের ‘কিংপিন’ বলে পরিচিত কমলেশ রজনীকান্ত শাহ। তার নেটওয়ার্কের হদিশ মিলল এবার খাস কলকাতায়। বড়বাজারের পোস্তায় কদিন আগে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ডাকাতি হয়েছিল। যার তদন্তে নেমেছিল পুলিশ। কোথাও হাওলার টাকা লুট হলে সেটা নিজের বলে দাবি করা কমলেশ শাহের ‘মোডাস অপারেন্ডি’। পোস্তায় লুট হওয়া টাকাও যথারীতি নিজের বলে দাবি করেছে হাওলার এই কিংপিন। পোস্তা থানায় সরাসরি ফোন করে এই টাকা নিজের বলে দাবি করেছে কমলেশ। তারপরই জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এবার ডাকাতির ঘটনায় ললিত মুন্দ্রা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে ‘টিপার’ হিসাবে এই ডাকাতির ঘটনায় কাজ করেছিল বলে তদন্তকারীরা হাতে উঠে এসেছে তথ্য।
এই ললিত মুন্দ্রা হাওলার ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পোস্তায় সোয়া কোটি টাকা ডাকাতির নেপথ্যে যে হাওলা চক্র কাজ করেছে সেটা জানতে পেরেছে পুলিশ। এই ডাকাতির ঘটনার পিছনে আছে রাজস্থানের গ্যাং। এই ললিত মুন্দ্রাই রাজস্থান থেকে ডাকাতদের ডেকে নিয়ে এসেছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। হাওলা কারবারের চাঁই কমলেশ রজনীকান্ত পোস্তা থানায় ফোন করে দাবি করে, এসব তার ব্যবসার টাকা। প্রামাণ্য নথিও আছে তার কাছে। এখান থেকেই তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, কমলেশের নেটওয়ার্ক এই রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এই আবহে ডাকাতদের ধরতে এবার রাজস্থানের বিকানেরে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশের টিম। ওই ডাকাতির ঘটনার পর হাওলার গদির তিন কর্মীও চম্পট দিয়েছে। তদন্ত করে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে পুলিশের হাতে। পুলিশ জানতে পেরেছে, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাতে ওই একই গদি মালিকের হাওলার গদিগুলিতে ডাকাতি হয়েছে। প্রত্যেকটি গদি থেকে কয়েক কোটি টাকা করে ডাকাতি হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
আবার আমেদাবাদের বাসিন্দা কমলেশ শাহের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে দিল্লি, গুজরাত, মুম্বাই, হায়দরাবাদ-সহ নানা রাজ্যে। এই হাওলা কিংপিনের কৌশলই হলো, দেশের যে কোনও প্রান্তে হাওলার টাকা লুট হলেই অথবা আয়কর দপ্তর তল্লাশি চালিয়ে হিসাববহির্ভূত টাকা বাজেয়াপ্ত করলেই নানা নথি নিয়ে থানা বা আয়কর অফিসে পৌঁছে যায় সে। ওই টাকা নিজের বলে দাবি করে থাকে। এভাবে অন্যের টাকা হাতানোর একটা বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে তার। ওই টাকা আবার বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয় হাওলার মাধ্যমেই। মে মাসে সার্ভে পার্কে যে ১ কোটি টাকা ডাকাতি হয়েছিল সেটাও নিজের বলে দাবি করেছিল এই কমলেশ। কলকাতা শহরে যারা হাওলার কারবার করে তাদের বিষয়ে সমস্ত তথ্য রয়েছে কমলেশের কাছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই হাওলা ব্যবসায়ীদের লেনদেনের খবর পেতে টিপার নিয়োগ করত কমলেশ।
তাছাড়া এই টিপাররা যে খবর পৌঁছে দিত তার উপর ভিত্তি করে অপারেশন করত কমলেশ বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। আর তাই ললিত মুন্দ্রা পোস্তার ডাকাতির ঘটনায় কমলেশ শাহের টিপার হিসাবে কাজ করেছিল কিনা সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রাজস্থানে পালানোর সময় হাওড়া স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ললিত মুন্দ্রাকে। তাই কলকাতা পুলিশের টিম রাজস্থানে যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। ললিতকে ম্যারাথন জেরা করা হলে সে দাবি করে, ওই ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা হাওলার। ডাকাতরা মধ্যপ্রদেশে গা-ঢাকা দিয়েছে।




