• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 26 August, 2026

দু’দিনেই টেস্ট শেষ অস্ট্রেলিয়ায়! ভারত হলে এত দিনে হইচই পড়ে যেত! ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে বিস্ফোরক সুনীল গাভাস্কর

ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার এমন পিচ তৈরি করাও তাঁর কাছে খুব একটা আশ্চর্যের নয়। কারণ প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হেরে প্রবল ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া

দু’দিনেই টেস্ট শেষ অস্ট্রেলিয়ায়! ভারত হলে এত দিনে হইচই পড়ে যেত! ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে বিস্ফোরক সুনীল গাভাস্কর

Sunil Gavaskar Photo-ANI

দু’দিনেই শেষ টেস্ট! ৭৫০ বলেই ম্যাচের ফয়সালা! অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে এ বার সরব সুনীল গাভাস্কর। তাঁর প্রশ্ন, ভারতের মাটিতে এমন ঘটনা ঘটলে যে ভাবে পিচ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়, অস্ট্রেলিয়াকেও সেই একই মাপকাঠিতে কেন মাপা হয় না? ম্যাকের পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।

বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয়। অস্ট্রেলিয়াও ব্যাট হাতে খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না—তাদের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২১০ রানে। অর্থাৎ দু’দিনের টেস্টে মোট ১৮টি উইকেট পড়েছিল প্রথম দিনেই। দ্বিতীয় দিনেও উইকেট পড়তে থাকে হুড়মুড়িয়ে।

এই ম্যাচের পিচ প্রসঙ্গেই নিজের কলামে গাভাস্কর লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আরও একটি টেস্ট দু’দিনের মধ্যে শেষ হল। গত কয়েক বছরে সেখানে এমন চারটি টেস্ট হয়েছে। অথচ এমন ফল দেওয়া ট্রামপোলিনের মতো বাউন্সি পিচ নিয়ে আমরা কোনও সমালোচনা শুনছি না’।

কেন এমন পিচ তৈরি হল, তার ব্যাখ্যাও যে আসবে, তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। তাঁর কথায়, ‘অজুহাত আসবে— গ্রাউন্ডসম্যান, মানে ‘টার্ফ এক্সিকিউটিভ’, ভুল করে ফেলেছেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে গরমের কথা বলা হয়েছিল, তাই তিনি একটু বেশি ঘাস রেখে দিয়েছিলেন। আর তার ফলেই অতিরিক্ত বাউন্স’।

শুধু পিচ নয়, ব্যাটারদের ব্যর্থতার ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি। গাভাস্করের যুক্তি, বলা হবে ব্যাটারদের বাউন্স সামলানোর টেকনিক ছিল না। কিন্তু তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘হোম টিমের ব্যাটাররাও যখন রান করতে বা একটা ভাল জুটি গড়তে পারছে না, তখন পিচ নিয়ে কী বার্তা দেয়?’

এখানেই ভারতের পিচ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন গাভাস্কর। তাঁর দাবি, ভারতে তিন দিনে কোনও টেস্ট শেষ হলেই পিচ, বিসিসিআই এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রতিবেদন ও ইঙ্গিত শুরু হয়ে যায়। অথচ অস্ট্রেলিয়ায় দু’দিনে টেস্ট শেষ হলেও তেমন প্রশ্ন ওঠে না।

গাওস্করের ভাষায়, ‘কিন্তু ভারতে কোনও ম্যাচ তিন দিনে শেষ হলে পিচ, বিসিসিআই এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তিপূর্ণ প্রতিবেদন ও ইঙ্গিত দেখা যাবে। এই দ্বিচারিতা এতটাই স্পষ্ট যে তা সত্যিই অবাক করে’।

এখানেই থামেননি ‘লিটল মাস্টার’। তাঁর মতে, দ্রুতগতির পিচে বিদেশি ব্যাটাররা সমস্যায় পড়লে তাঁদের দক্ষতার অভাব বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু উপমহাদেশের ঘূর্ণি পিচে বিদেশি ব্যাটাররা ব্যর্থ হলে তখন দায় গিয়ে পড়ে পিচের উপর।

গাওস্করের কটাক্ষ, টদ্রুত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাটারদের অক্ষমতার কথা বলা হবে। কিন্তু বিদেশি ব্যাটাররা যখন বল ঘুরলে খেলতে পারে না, তখন একই কথা কেউ বলে না। তখন পিচের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ‘শয়তান’কে দায়ী করা হয়’।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুতগতির পিচে রান করতে না পারা ব্যাটারদের ভাল ব্যাটার বলা হয় না। অথচ ধীরগতির পিচে উইকেট না পেলেও সেই দ্রুতগতির বোলারদের মহান বোলার বলা হয়। যেমনটা বলেছি, এই দ্বিচারিতা সত্যিই বিস্ময়কর’।

ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার এমন পিচ তৈরি করাও তাঁর কাছে খুব একটা আশ্চর্যের নয়। কারণ প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হেরে প্রবল ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় টেস্টে তাই পেস ও বাউন্সকে কাজে লাগানোর মতো পরিবেশ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা—এমনটাই মনে করছেন গাভাস্কর।

এখন নজর ম্যাচ রেফারির পিচ-রেটিংয়ের দিকে। সেই রেটিং নিয়েও গাওস্করের কটাক্ষ, ‘দেখা যাক, ম্যাকের পিচকে ম্যাচ রেফারি কী রেটিং দেন। তবে ভারতীয় সমর্থকেরা খুব বেশি আশায় থাকবেন না। অস্ট্রেলীয়রা ইতিমধ্যেই নিশ্চিন্তে নিঃশ্বাস ফেলছে, কারণ তাদের চিন্তার মতো কিছুই নেই’।

ম্যাকেতে দু’দিনের টেস্ট শেষ হওয়ার পর তাই ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে এখন পিচও। আর সুনীল গাভাস্করের বক্তব্যে সেই বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বলল। পিচের বিচারেও কি সত্যিই আলাদা আলাদা মাপকাঠি কাজ করে?