• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 24 August, 2026

কেন্দ্র-রাজ্যের নেতাদের জেলা সফর, তোলাবাজি বন্ধে বড় উদ্যোগ বিজেপির

বিজেপি সরকার কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ এবং অবৈধ তোলাবাজির সংস্কৃতি নির্মূলের মাধ্যমে প্রশাসন যে আসতে মানুষের জন্যই কাজ

কেন্দ্র-রাজ্যের নেতাদের জেলা সফর, তোলাবাজি বন্ধে বড় উদ্যোগ বিজেপির

BJP Leaders District Visit Photo-SNS

রাজ্যে পালাবদলের পর তোলাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি সরকার। কিন্তু কিছু নেতা-বিধায়ক তোলাবাজি করেই চলেছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এই তোলাবাজি বন্ধ করতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বারবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি বলেই অভিযোগ। এবার তোলাবাজি রুখতে কেন্দ্র এবং রাজ্য নেতারা প্রত্যেক জেলায় ঘুরবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তোলাবাজি বন্ধ করতে এবার কড়া পথে হাঁটতে চলেছেন বিজেপি নেতারা। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতারা জেলায় এসে বিতর্কিত নেতাদের ‘ক্লাস’ নেবেন। সতর্ক করা হবে। তার পরও কাজ না হলে বহিষ্কার করা হবে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্র এবং রাজ্যের নেতাদের জেলা সফর শুরু হবে। জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা থেকে শুরু করে তারা নরেন্দ্র মোদীর সাফল্যের কাহিনী শোনাবেন। তার জন্য পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় এলে রাজ্যে জোরজুলুম, কাটমানি, তোলাবাজি সংস্কৃতি বন্ধ করা। সে কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতায় আসার পরই কাটমানি এবং তোলাবাজি রুখতে টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছেন তিনি। যা নিয়ে রাজ্যবাসীকে সচেতন করতে মরিয়া রাজ্য বিজেপি শিবির। সমাজমাধ্যমে কাটমানি, তোলাবাজি আর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের নয়া টোল-ফ্রি নম্বর প্রচারে ব্যস্ত বিজেপি। টোল-ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানালেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওইসব নম্বর, সংরক্ষণ এবং শেয়ার করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। আর তোলাবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিতে রিপোর্ট গিয়েছে। সেটার যাচাই পর্ব শুরু হয়েছে। ওই নেতাদের সঙ্গে জেলাতেই রাজ্যের নেতারা বৈঠক করে সতর্ক করবেন। কড়া পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। সংগঠনের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়েছে। কিন্তু কড়া পদক্ষেপ করার আগে অভিযুক্তদের আরও একবার সতর্ক করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

বিজেপি সরকার কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ এবং অবৈধ তোলাবাজির সংস্কৃতি নির্মূলের মাধ্যমে প্রশাসন যে আসতে মানুষের জন্যই কাজ করছে সেটা প্রমাণ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে পদ্মশিবির। এমনকী তোলাবাজির প্রমাণ হাতে নিয়েই রাজ্য নেতারা তাঁদের ডাকবেন। কয়েকদিন আগে কয়েকজন নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের জনপ্রতিনিধিরা বেশি বিতর্কে জড়িয়েছেন বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র এবং রাজ্যের নেতাদের এবার জেলা সফর শুরু করতে হচ্ছে। নেতাদের একাংশ নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে উঠে এসব কাজ করছে। বালি, পাথর খাদানগুলিতে তাঁরা বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। জরিমানা আদায় করছে বলে অভিযোগ। এলাকা দখল নিয়ে তাঁরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ জমা পড়েছে।

তাছাড়া জুলাই মাসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সব কাগজপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও লরিচালকের কাছে হাজার হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কর্তব্যরত দুই মোটর ভেহিকেল ইনস্পেক্টরকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাজ্য প্রশাসন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সামনেই পুরসভা নির্বাচন আছে। তাই প্রত্যেকটি জেলায় রাজ্য নেতারা গিয়ে হালহকিকত বুঝবেন। কোথায় কী দুর্বলতা রয়েছে, সেই নোট তাঁরা নেবেন। আর তোলাবাজ নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা কলকাতায় ফিরবেন বলে সূত্রের খবর।