• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 23 August, 2026

বৈভব-ঈশানের ব্যর্থতার পর পূর্বাঞ্চলকে টেনে তুলল বাংলার সুদীপ-শেহবাজ জুটির জোড়া সেঞ্চুরি

সুদীপ ও শেহবাজের সেঞ্চুরি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দলের ইনিংসের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈভব ও ইশানের মতো তারকারা যখন রান করতে পারেননি, তখন বাংলার ব্যাটারের এই লড়াই দলকে বড় রানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বৈভব-ঈশানের ব্যর্থতার পর পূর্বাঞ্চলকে টেনে তুলল বাংলার সুদীপ-শেহবাজ জুটির জোড়া সেঞ্চুরি

Photo: X

শুরুটা একেবারেই ভাল হয়নি। একের পর এক উইকেট পড়ছিল। ১৩৮ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল পূর্বাঞ্চল। সেখান থেকেই ব্যাট হাতে ত্রাতা হয়ে উঠলেন বাংলার সুদীপ কুমার ঘরামি এবং শেহবাজ আহমেদ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে দুরন্ত শতরান করে পূর্বাঞ্চলকে বড় রানের পথে নিয়ে গেলেন বাংলার দুই ক্রিকেটার।

সেঞ্চুরির পথে অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদের সঙ্গে দারুণ পার্টনারশিপ গড়েন সুদীপ। দু’জনে মিলে ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে পূর্বাঞ্চলের ইনিংসকে বিপদসীমা থেকে সরিয়ে আনেন। দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে সুদীপের ইনিংসই ম্যাচের রং বদলে দেয়। সুদীপের পর দলকে রানের পাহাড়ে তোলার দায়িত্ব নেন শাহবাজ এবং তিনিও সেঞ্চুরি করেন।

দিনের শুরু থেকেই অবশ্য পূর্বাঞ্চলের ব্যাটিংয়ে ছিল অস্বস্তি। সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীর দিকে। দলীপ ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচে শুরুটাও করেছিলেন ঝড়ের গতিতে। দ্বিতীয় ওভারে বিশ্বজিত কোনথৌজামের বলে পর পর দু’টি বাউন্ডারি মেরে নিজের আগ্রাসী মানসিকতার পরিচয় দেন বৈভব।

কিন্তু পরের বলেই বদলে যায় ছবি। ওভারের শেষ বলে বৈভবকে ফিরিয়ে দেন কোনথৌজাম। মাত্র ৮ রান করেই থামতে হয় ১৫ বছরের এই প্রতিভাকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকটা তাই মনে রাখার মতো হল না তাঁর।

শুধু বৈভব নন, ব্যর্থ হয়েছেন পূর্বাঞ্চল তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার ইশান কিষানও। মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান তিনি। ফলে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পূর্বাঞ্চল। সেই পরিস্থিতিতেই হাল ধরেন সুদীপ।

দল যখন ১৩৮/৫, তখন আরও একটি উইকেট পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। কিন্তু সুদীপ ও শাহবাজ ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়তে থাকেন। প্রথমে উইকেট বাঁচানো, তার পরে সুযোগ পেলেই রান—এই কৌশলেই এগিয়েছে তাঁদের জুটি। শেষ পর্যন্ত দু’জনের ব্যাটে ১০০ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে।

সুদীপ ১৪৬ রান করেন ২৫টি চার ও একটি ছয় মেরে।দিনের শেষে শাহবাজ অপরাজিত ১০০ রানে (৯টি চার ও ২টি ছয়) এবং পূর্বাঞ্চলের স্কোর ৬ উইকেটে ৩৫৫।

সুদীপ ও শেহবাজের সেঞ্চুরি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দলের ইনিংসের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈভব ও ইশানের মতো তারকারা যখন রান করতে পারেননি, তখন বাংলার ব্যাটারের এই লড়াই দলকে বড় রানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

দলীপ ট্রফির মতো মঞ্চে চাপের মধ্যে সুদীপ-শেহবাজের এই জোড়া সেঞ্চুরি তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। এখন দেখার, শাহবাজ পূর্বাঞ্চলের স্কোরকে কোথায় নিয়ে যেতে পারেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোলারদের বিরুদ্ধে দল শেষ পর্যন্ত কত বড় রান তুলতে পারে।