• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 22 August, 2026

ইউক্রেনের শপিং মলে রুশ ফৌজের জোড়া হামলায় ১৬ জন নিহত

ফের যুদ্ধের ভয়াবহতার মুখে ইউক্রেন। শুক্রবার মধ্য ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরের একটি ব্যস্ত

ইউক্রেনের শপিং মলে রুশ ফৌজের জোড়া হামলায় ১৬ জন নিহত

ইউক্রেনের শপিং মলে রুশ ফৌজের জোড়া হামলায় ১৬ জন নিহত AI

ফের যুদ্ধের ভয়াবহতার মুখে ইউক্রেন। শুক্রবার মধ্য ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরের একটি ব্যস্ত শপিং সেন্টারে জোড়া ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। হামলায় মহিলা ও শিশু-সহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৩০ জনেরও বেশি। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন শিশু। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এখনও ৯ জন নিখোঁজ। তাঁদের কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলাটি ‘ডাবল ট্যাপ’ কৌশলে চালানো হয়। অর্থাৎ প্রথম হামলার কিছুক্ষণ পর একই জায়গায় ফের হামলা চালানো হয়। তাঁর অভিযোগ, প্রথম ড্রোন হামলার পর যখন দমকলকর্মী, চিকিৎসক ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে, তখনই আবার দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়। জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘নিন্দনীয় ও জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘এই ধরনের হামলা সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম ছাড়া আর কিছু নয়।’ রাশিয়ার তরফে অবশ্য এই অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেক্সান্ডার হানঝা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ২৩ জন শিশু রয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাতভর ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়েছে উদ্ধারকারী দল। জীবিতদের সন্ধানে ইউক্রেনের আরও কয়েকটি অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আগুনে জ্বলতে থাকা শপিং সেন্টারে দ্বিতীয় ড্রোনটি আঘাত হানছে।

ক্রিভি রিহ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নিজের শহর। এই হামলার পাশাপাশি শুক্রবার মাইকোলাইভ অঞ্চলে পৃথক রুশ হামলায় ৩ শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। খারকিভেও আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এর আগের দিন কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, পাল্টা হামলা চালিয়ে রাশিয়ার সামারার একটি তেল শোধনাগর এবং একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে আঘাত করার দাবি করেছে ইউক্রেন বাহিনী। সাম্প্রতিককালে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে বারবার নিশানা করছে কিয়েভ। তাদের দাবি, যুদ্ধ চালানোর অর্থ জোগাতে সাহায্য করা পরিকাঠামোগুলিই এই হামলার লক্ষ্য।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর চার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তবু যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং হামলা ও পাল্টা হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে, যা নতুন করে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।