• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 22 August, 2026

‘নোটিস পাঠানোর প্রথা বন্ধ, বেআইনি হোটেল সিল করুন’, কড়া বার্তা দিলেন অগ্নিমিত্রা

অন্যদিকে কদিন আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে

‘নোটিস পাঠানোর প্রথা বন্ধ, বেআইনি হোটেল সিল করুন’, কড়া বার্তা দিলেন অগ্নিমিত্রা

Minister Agnimitra Paul Photo-SNS

নিউমার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ড এবং তার জেরে মানুষজনের পর পর মৃত্যু দেখে শিউরে উঠেছিল মহানগরী। বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুতরাং আর এমন কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। শনিবার শহরের মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর সেখানের বাস্তব পরিস্থিতি দেখে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠে কড়া বার্তা দিলেন অগ্নিমিত্রা। নোটিস দিয়ে কোনও লাভ হয় না বলে কার্যত মেনে নিলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী। আর তাই আর কোনও নোটিস নয়, অনিয়ম দেখলেই হোটেল সিল করে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিলেন তিনি। এতদিন ধরে বেআইনিভাবে হোটেল কীভাবে চলছিল সেটার জবাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিমের কাছে চেয়েছেন অগ্নিমিত্রা।

এদিকে কলকাতার হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলির বেআইনি কারবার ও অগ্নিনির্বাপণ বিধিতে চরম গাফিলতি রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী। অনিয়ম চোখে পড়লেই কোনওরকম শোকজ না করে সরাসরি হোটেল সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এখানেই এসে পুরমন্ত্রী সুর চড়িয়ে নির্দেশ দেন, ‘কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়ে আর কোনও লাভ হয় না। নোটিস পাঠানোর প্রথা বন্ধ করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। তাই আর শোকজ করে কোনও লাভ নেই। সরাসরি সিল করা হবে। এতদিন ধরে কীভাবে এই কারবার চলছিল? তার জবাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম দিতে পারবেন। ফিরহাদ হাকিম অনুমতি দিতেন কীভাবে? আগে লিডারদের বাড়ি বাড়ি পারসেনটেজ পৌঁছে যেত। এখন আর টাকা দিয়ে বেনিয়মকে নিয়ম করা যাবে না।’

অন্যদিকে কদিন আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার পর মধ্য কলকাতার হোটেল পরিকাঠামো নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ধর্মতলা চত্বরের ১৬টি হোটেলকে সিল করেছে দমকল বিভাগ। আরও ২৫টি হোটেলকে দেওয়া হয়েছে শোকজ নোটিস। এবার শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানের বাস্তব পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘নোটিসে কোনও কাজ হয় না। যদি হোটেলে অতিথি বা আবাসিক থাকেন, তবে তাঁদের সরানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। তার পর গালা দিয়ে হোটেলটি সিল করে দিন। পরে সমস্ত নথিপত্র এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আইনমাফিক ঠিক থাকলে তবেই আবার তা খুলে দেওয়া যাবে।’

তাছাড়া এই আবহে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা এবং ব্যবসার কাজে কলকাতায় এসে বিপাকে পড়েছেন বহু মানুষজন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা অথবা বরিশাল থেকে আগেই অনলাইনে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়ায় মধ্য কলকাতার ফ্রি-স্কুল স্ট্রিট এবং নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলগুলিতে ডিলাক্স রুম বুক করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু কলকাতায় এসে তাঁরা দেখেন, অগ্নিকাণ্ডের পর যৌথ তদন্ত এবং প্রশাসনিক অডিটের কারণে প্রায় সমস্ত হোটেলেরই দরজা বন্ধ। এখানেই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাই এদিন অগ্নিমিত্রার কড়া নির্দেশ, ‘নোটিসে কোনও কাজ হয় না। অতিথি থাকলে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। তারপর গালা দিয়ে সিল করে দিন। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে তখন আবার খুলে দেওয়া যাবে।’