স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ (World Cup) ফাইনাল হারের পর মাঠে কুখ্যাত সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ এবং নাহুয়েল মোলিনাকে ৭ ম্যাচ নির্বাসিত করল ফিফা (FIFA)। জরিমানাও করা হল দুই ফুটবলারকে। শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থাও।
বিশ্বকাপ (World Cup) ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের বদলে মাঠে শুরু হয়েছিল হাতাহাতি। স্পেনের কাছে হারের হতাশা, প্রতিপক্ষের উচ্ছ্বাস— সব মিলিয়ে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। সেই ঘটনার প্রায় এক মাস পরে কড়া পদক্ষেপ করল ফিফা (FIFA) । শাস্তি পেলেন আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং নাহুয়েল মোলিনা। জরিমানা করা হল আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা বা এএফএ-কেও।
ফিফার (FIFA) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে সংঘর্ষে জড়ানোর দায়ে পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নির্বাসিত করা হয়েছে। তাঁর সতীর্থ মোলিনার শাস্তি ৭ ম্যাচের। দু’জনকেই ৯০ হাজার মার্কিন ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে।
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরেই স্পেনের গাভিকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন পারেদেস। সেই সময় স্পেনের রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারেরা মাঠে ঢুকে পড়েন জয় উদ্যাপন করতে। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি এবং মোলিনার বিরুদ্ধে দু’টি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
শুধু পারেদেস-মোলিনা নন, শাস্তি পেয়েছেন আরও কয়েক জন। আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের গাভিকে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য এক ম্যাচ করে নির্বাসিত করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ নির্বাসিত করেছে ফিফা (FIFA)। আয়ালা অবশ্য সংঘর্ষে তাঁর ভূমিকার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়েছিলেন। আলমাদা, গাভি এবং আয়ালাকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার করে জরিমানাও করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার। বিশ্বকাপ চলাকালীন একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এএফএ-কে মোট ৩ লক্ষ ২১ হাজার মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় তিন কোটি সাত লক্ষ টাকারও বেশি) জরিমানা করেছে ফিফা (FIFA)। এর মধ্যে রয়েছে দলগত অসদাচরণ, সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ এবং খেলার মঞ্চকে খেলার বাইরের বিষয়ের বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার করার অভিযোগ।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জয়ের পরে কয়েক জন আর্জেন্টিনা ফুটবলার ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’— অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’— লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। ফিফার (FIFA) মতে, খেলাধুলার আসরকে অ-ক্রীড়া সংক্রান্ত বিক্ষোভ বা বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার করা শৃঙ্খলাবিধির লঙ্ঘন। ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি জানিয়েছে, ‘৩ লক্ষ ২১ হাজার ডলারের মধ্যে ১ লক্ষ ডলার বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করতে হবে’।
আরও পড়ুন: বাংলার সম্ভাব্য দল থেকে বাদ পড়লেন অভিযুক্ত অভিষেক পোড়েল
এ ছাড়াও আর্জেন্টিনাকে পরের দু’টি হোম ম্যাচে মাত্র ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে খেলতে হবে। যদিও শাস্তির একটি অংশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফিফার (FIFA)বক্তব্য, ‘দু’টি ম্যাচের মধ্যে একটি এবং জরিমানার ১ লক্ষ ডলারের শাস্তি আপাতত স্থগিত থাকবে এবং তা পর্যবেক্ষণকাল সাপেক্ষ’।
ফিফার (FIFA) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবশ্য আবেদন করতে চলেছে এএফএ। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার আইনি বিভাগ প্রথমে ফিফার (FIFA) কাছে রায়ের বিস্তারিত কারণ জানতে চাইবে। তার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করা হবে। প্রয়োজন হলে ক্রীড়া আদালত কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস বা সিএএস-এর দ্বারস্থ হতেও প্রস্তুত তারা।
এএফএ-র আইনি বিভাগের কর্তা আন্দ্রেস পাটন উরিখ আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য পারেদেস এবং মোলিনার নির্বাসনের মেয়াদ কমানো। বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের যন্ত্রণা তো ছিলই। তার সঙ্গে মাঠের শেষ মুহূর্তের সেই হাতাহাতি এ বার আর্জেন্টিনাকে আরও বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করল।
দেখুন: নারী নির্যা*তনের ঘটনায় দ্রুত বিচার, নতুন আইনে জোর শুভেন্দুর




