উৎসবের মরসুমে চিনির (Sugar) জোগানে টান পড়া এবং দাম আরও বেড়ে যাওয়া – উভয় দিক সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো, ধনতেরাস ও দীপাবলির আগে বাজারে চিনির (Sugar) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রায় এক দশক পর শুল্কমুক্ত অপরিশোধিত চিনি (Sugar) আমদানির অনুমতি দিল সরকার। ‘ট্যারিফ-রেট কোটা’ বা টিআরকিউ-এর আওতায় আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করা যাবে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সুবিধা শুধু অপরিশোধিত চিনির (Sugar) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমদানি করা চিনি (Sugar) সরাসরি বাজারে বিক্রি করা যাবে না। দেশের চিনিকলগুলিতে (Sugar) পরিশোধন করে সাদা চিনি হিসাবে বাজারে ছাড়তে হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের পর এই প্রথম অপরিশোধিত চিনি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক মকুব করল কেন্দ্র।
এছাড়া দেশের বাজারে চিনির দাম বাড়ার নেপথ্যে ইথানলের উৎপাদনের যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিল কেন্দ্র। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়ার কারণে চিনির দাম বেড়েছে, এমনটা সঠিক নয়। ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। প্রত্যাশার চেয়ে কম চিনি উৎপাদন, উৎসবের মরশুমকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়া জনিত কারণে ফসলের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মজুত ও ফটকা বাজারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কলকাতার খুচরো বাজারে এক কেজি চিনির দাম প্রায় ৭০ টাকা ছুঁয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এক মাসে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম। গত কয়েক দিনেই বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে মিষ্টি, বিস্কুট, কনফেকশনারি থেকে শুরু করে বাড়ির রান্নাঘর—সব জায়গাতেই এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উৎসবের আগে এই দামবৃদ্ধিতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে চিনির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। পুজো-পার্বণে মিষ্টির দোকান ও খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি যেমন বেশি চিনি কেনে, তেমনই বাড়িতেও এর ব্যবহার বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে বড় ক্রেতাদের অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতেও ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলি এবার থেকে ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবে না। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু আমদানি নয়, বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ঠেকানো। ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, পাইকারি বাজারেই দাম ৬৫ টাকা ছুঁয়েছে। ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ার প্রভাবও চিনির বাজারে পড়ছে বলে দাবি তাঁদের।
তবে চিনি (Sugar) শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, দেশে এখনই চিনি শেষ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সেপ্টেম্বরের শেষে কয়েক মিলিয়ন টন চিনি মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন মরসুমের আখ মাড়াইও এ বার ১৫ থেকে ২০ দিন এগিয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আমদানি, মজুত নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন মরসুমের উৎপাদন — তিন দিক থেকেই বাজারে জোগান বাড়িয়ে উৎসবের মরসুমে দাম সামলানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছেন, ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তেই দেশে চিনির উৎপাদন কমেছে। তাঁর দাবি, ১৭ দিনেই চিনির দাম ৪৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা হয়েছে। যদিও চিনি শিল্পের বক্তব্য, বাজারে বর্তমান পরিস্থিতির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। উৎপাদন, আবহাওয়া, উৎসবের বাড়তি চাহিদা এবং মজুতের মতো বিষয়ও তার মধ্যে রয়েছে।
দেখুন: নারী নির্যা*তনের ঘটনায় দ্রুত বিচার, নতুন আইনে জোর শুভেন্দুর




