একটানা ভারী বৃষ্টিতে সবং-মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আকাশপথে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি সেখানে বৈঠক করেন জেলাশাসক ও জেলার সমস্ত বিধায়কের সঙ্গে। প্রশাসনিক কর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন। সেই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কেলেঘাইয়ের জলস্তর এখন বিপদসীমার নীচে। এখনও পর্যন্ত যাঁরা ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের পাঁচ দিনের রেশন দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৩ হাজার ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি পুননির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশকে আলাদা করে টাকা দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে পুলিশ জলবন্দি মানুষের বাড়িতে রেশন ও জলের ২০ লিটারের জার পৌঁছে দেবেন। পিংলা, সবং, নারায়নগড়ে ১০টা সাপে কাটার কেস এসেছিল। প্রত্যেককে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর ভালো কাজ করছে। এছাড়াও চাষের জমি নষ্ট হওয়ার ফলে যে সকল চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরা আজ থেকেই প্রধানমন্ত্রী শস্য বিমা যোজনায় আবেদন করতে পারবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যার কারণে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’ এরপরেই শুভেন্দু তৎকালীন সরকারকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘গ্রামবাসীরা নিজেরাই আমাকে বলছেন, ১৯৮৬ সালে শেষবার এখানে জ্যোতিবাবু এসেছিলেন। তারপরে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পরিদর্শনে এলেন। কী আর করা যাবে! আগের মুখ্যমন্ত্রীরা গ্রামের মানুষকে মানুষ বলে মনে করতেন না। গ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির টান।’
আরও পড়ুন: হাইকোর্টে ধাক্কা টুলুর, খারিজ মামলা, আদালতে গোপন রিপোর্ট জমা রাজ্যের
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্রামই আমার শুরু, গ্রামই আমার শেষ। তাই আমি তো আসবই। রাজেশ মাহাতো স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁকে এখানে রেখে দিয়ে গেলাম। তিনি আরও দু’দিন এখানে থাকবেন। সবাইকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া না পর্যন্ত তিনি এখানে থাকবেন। বন্যা পরিস্থিতিতে ৫০ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যাম্পে এখনও ৪-৫ হাজার লোক রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যাকে যা দায়িত্ব দেওয়ার দিয়েছি।’ সবং থেকে হুগলির আরামবাগে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন।




