বন্যা কবলিত সবং পরিদর্শন করতে বৃহস্পতিবার আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হেলিকপ্টারে বা সড়কপথে সবংয়ে আসতে পারেন বলে খবর। সবংয়ের বাড়জীবনে কিষাণ মান্ডিতে হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। সবংয়ের বিধায়ক অমল পন্ডা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলে প্রশাসন তাঁর জন্য তৈরি আছে। সবং বিডিও অফিসে সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী একটি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। যদি মুখ্যমন্ত্রী বন্যা কবলিত পরিদর্শনে এলাকা পরিদর্শন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাহলে বুড়াল, বিষ্ণুপুর, নারায়ণবাড় যে কোনও একটি এলাকায় তিনি যেতে পারেন। বন্যাদুর্গত মানুষজনের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তার জন্য প্রশাসন তৈরি রয়েছে। অমলবাবু জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে জল নামছে, এটা আশার কথা। তবে সবংয়ের বিখ্যাত মাদুরকাঠির চাষ ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান, পাট, পান চাষেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে একাধিক জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা বানভাসী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার জেরে ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বন্যা পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকে এই নিয়ে কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, বন্যা দুর্গত এলাকায় বুধবার রাতের মধ্যেই পৌঁছতে হবে বিধায়কদের বলে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যা কবলিত এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদেরও দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন করার পাশাপাশি বিডিও অফিসে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে বলা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে বিধায়ক-মন্ত্রীদের।
অন্যদিকে দুর্গাপুজোর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ইনপুট এসেছে বলে জানা গিয়েছে। আর তাই এখন থেকেই বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেক এলাকায় কোনও অশান্তি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্যদের। এদিনের বৈঠকে সবদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। সাধারণ মনুষ যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন সেসব দেখতে বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
তাছাড়া বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার জেরে রবিবার থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। সোমবার দিনভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তাতে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া-সহ অন্যান্য জেলাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি এই বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়া-সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। পশ্চিম মেদিনীপুরে নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাঁতন, কেশিয়াড়ির নানা জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।




