• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

জিন্নার শারীরিক অবস্থা প্রকাশ না করে পাকিস্তানে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত ২ ভারতীয় চিকিৎসক 

জানা যায়, ১৯৩০-এর দশক থেকেই তিনি এই রোগে ভুগছিলেন এবং তাঁর বোন ফতিমা জিন্না-সহ অতি ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বিষয়টি জানতেন। সেই সময়ে যক্ষ্মা ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী রোগ এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও সহজলভ্য ছিল না।

জিন্নার শারীরিক অবস্থা প্রকাশ না করে পাকিস্তানে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত ২ ভারতীয় চিকিৎসক 

Photo: Statesman

দেশভাগের আগে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলী জিন্নার মরণব্যাধি যক্ষ্মার খবর গোপন রাখার জন্য মরণোত্তর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ পেতে চলেছেন মুম্বাইয়ের ২ পার্সি চিকিৎসক। তাঁরা হলেন চিকিৎসক রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ধায়ভো-কু। পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী তথা পুরস্কার কমিটির প্রধান আহসান ইকবাল সম্প্রতি এই ঘোষণা করেছেন। ২০২৭ সালের মার্চে একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হবে।

আহসান ইকবালের দাবি, ১৯৪৬ সালে জিন্নার বুকের এক্স-রে করে ২ চিকিৎসক বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর যক্ষ্মা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত মূল্যায়ন ছিল, জিন্নার হাতে হয়তো আর ১ থেকে ২ বছর সময় রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের পেশাগত গোপনীয়তার নীতি মেনে তাঁরা এই তথ্য প্রকাশ করেননি। জিন্নার অসুস্থতার খবর তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বাইরে যাতে না যায়, তা নিশ্চিত করেছিলেন তাঁরা।

এই তথ্যকে ঘিরে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে। কয়েকজন ইতিহাসবিদের মতে, জিন্নার অসুস্থতার ভয়াবহতা সে সময় প্রকাশ্যে এলে ভারত ভাগ এবং পাকিস্তান তৈরির সময়সূচি বদলে যেতে পারত। এমনকি তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরে জানিয়েছিলেন, জিন্নার শারীরিক অবস্থার গুরুতর পরিস্থিতির কথা আগে জানা থাকলে দেশভাগের প্রক্রিয়া বিলম্ব করার সুযোগ তৈরি হতে পারত।

ঐতিহাসিকদের লেখায় অবশ্য জিন্নার যক্ষ্মায় আক্রান্ত থাকার কথা আগেই উঠে এসেছে। জানা যায়, ১৯৩০-এর দশক থেকেই তিনি এই রোগে ভুগছিলেন এবং তাঁর বোন ফতিমা জিন্না-সহ অতি ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বিষয়টি জানতেন। সেই সময়ে যক্ষ্মা ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী রোগ এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও সহজলভ্য ছিল না। নিজের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় জিন্না তাঁর অসুস্থতার কথা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ আবুধাবির, দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল তেহরান

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির সময় জিন্নার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। তার পরের বছর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফুসফুসের যক্ষ্মায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৭৮ বছর পরে তাঁকে চিকিৎসা করা ২ ভারতীয় চিকিৎসককে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনা তাই দুই দেশের ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়কে ফের সামনে নিয়ে এল।