• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

ভারতের নয়া স্পিন-অস্ত্র মানবের সাফল্যের রহস্য কী, ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন কে এল রাহুল

ভারতের সাজঘরে যে শেখার পরিবেশ রয়েছে, তাও স্পষ্ট করেছেন রাহুল। তাঁর কথায়, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমে কখনও এমন মানসিকতা ছিল

ভারতের নয়া স্পিন-অস্ত্র মানবের সাফল্যের রহস্য কী, ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন কে এল রাহুল

KL Rahul Photo-SNS

একই অ্যাকশন, একই হাতের গতি— তবু কখনও ধীর, কখনও দ্রুত! সঙ্গে নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং সূক্ষ্ম বৈচিত্র্য। গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের নাস্তানাবুদ করা মানব সুথারের বোলিংয়ের রহস্য এ ভাবেই ব্যাখ্যা করলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক কেএল রাহুল। তাঁর মতে, মানবের সবচেয়ে বড় শক্তি হল, একই অ্যাকশন থেকে বার বার সামান্য বদল এনে ব্যাটারকে ক্রমাগত দ্বিধায় রাখা।

গল টেস্টে ১৬৫ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ভারত। সেই জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছেন মানব। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়েছেন তরুণ বাঁহাতি স্পিনার। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টের পর মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই তাঁর ঝুলিতে চলে এসেছে ১৭ উইকেট। দুই টেস্টে তাঁর বোলিং গড় মাত্র ১১.৩৫।

ম্যাচের পর মানবের বোলিং নিয়ে রাহুল বলেন, ‘একই অ্যাকশন, একই অ্যাঙ্গেল থেকে ও যে সূক্ষ্ম বৈচিত্র্য তৈরি করতে পারে, সেটাই ওর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। হাতের গতি না বদলেও ও বলকে কখনও ধীরে, কখনও দ্রুত করতে পারে। অ্যাঙ্গেলেও খুব সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনে’।

গলের বাতাসকেও দারুণ ভাবে কাজে লাগিয়েছেন মানব। রাহুলের কথায়, ‘গলে যখন এক দিক থেকে বাতাস বইছিল, তখন ও সেই ড্রিফট খুব ভাল ভাবে কাজে লাগিয়েছে। সেখান থেকে বল সোজা হয়েছে অথবা ব্যাটারের দিকে ঢুকে এসেছে। ভারতে খেললেও ও বরাবর এই কাজটাই করে এসেছে’।

মানবের আর একটি বড় গুণ হল তাঁর ধারাবাহিকতা। একই জায়গায় বার বার বল ফেলতে পারেন তিনি। রাহুল মনে করেন, এর ফলে ব্যাটারের উপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক বলেন, ‘একই জায়গা থেকে ও খুব ধারাবাহিক ভাবে বল করতে পারে। শুধু সূক্ষ্ম বৈচিত্র্য ব্যবহার করে সারা দিন সেটা করে যায়। তখন ব্যাটারও ভাবতে শুরু করে, ‘যদি ও বল নড়াচড়া না করায়, তা হলে আমাকে কিছু একটা করতেই হবে।’ আর কোনও ব্যাটারের মনে যদি এই মানসিকতা ঢুকে পড়ে, তখনই বোলার লড়াইটা জিতে যেতে পারে’।

শুধু স্পিন এবং ড্রিফট নয়, মানবের বোলিংয়ের গতি ও পারফেকশনেও মুগ্ধ রাহুল। তাঁর মতে, মানব একই সঙ্গে একাধিক ভাবে ব্যাটারকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেন— এলবিডব্লিউ, বোল্ড কিংবা ক্যাচ।

রাহুল বলেন, ‘আশা করি, ও আরও উন্নতি করতে থাকবে। তবে আমার মতে, ওর সবচেয়ে বড় গুণ হল যে গতিতে ও বল করে এবং ধারাবাহিক ভাবে ব্যাটারকে সব ধরনের আউট করার চেষ্টা করে। ও যে লাইনে বল করে, তাতে এলবিডব্লিউ হতে পারে, আবার সামান্য ঘুরলে উইকেটের পিছনে ক্যাচও হতে পারে। এই দক্ষতা সত্যিই স্পেশ্যাল’।

ভারতীয় দলের তরুণ ক্রিকেটারদের উঠে আসাতেও খুশি রাহুল। তাঁর মতে, সিনিয়র-জুনিয়র ভেদাভেদ না রেখে একে অপরকে সাহায্য করাই দলের সংস্কৃতি। রাহুল বলেন, ‘বয়সে বড় হোক বা মাত্র ২৬ বছরের হোক— প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই দায়িত্ব সতীর্থকে সাহায্য করা’।

ভারতের সাজঘরে যে শেখার পরিবেশ রয়েছে, তাও স্পষ্ট করেছেন রাহুল। তাঁর কথায়, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমে কখনও এমন মানসিকতা ছিল না যে, ‘ও এত টেস্ট খেলেছে, তাই আমি ওর সঙ্গে কথা বলব না’ বা ‘আমি ওর কাছ থেকে কিছু শিখতে পারি না’, সব সময়ই খোলামেলা ছিল আমাদের সাজঘরের পরিবেশ এবং সকলে একে অপরের কাছ থেকে শিখেছে’।

নিজের উদাহরণ দিয়ে রাহুল আরও বলেন, ‘আমিও নতুন কোনও ক্রিকেটারের কাছ থেকে একটা-দু’টো জিনিস শিখতে পারি। এখন যেমন যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে সুইপ এবং রিভার্স সুইপ নিয়ে কথা বলি। ও নিজের মতামতও জানায়’।

শুভমান গিল ইতিমধ্যেই বলেছেন, মানব ভারতের হয়ে দীর্ঘ দিন খেলতে পারেন। রাহুলও তাঁর বোলিংয়ের খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন— এই বাঁহাতি স্পিনারের সাফল্য কোনও হঠাৎ পাওয়া চমক নয়, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর বুদ্ধিদীপ্ত বৈচিত্র্যের ফল। ভারতীয় টেস্ট দল যে এক নতুন স্পিন-অস্ত্র পেয়ে গিয়েছে, এ তারই ইঙ্গিত।