একদিকে রক্তের জন্য হাহাকার, অন্যদিকে রক্ত সংগ্রহেই অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগের জেরে রাজ্যের ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে আপাতত রক্ত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে মানুষের জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখছে আদালত। তদন্তে অসহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে কোনও রকম অসহযোগিতা বরদাস্ত করা হবে না। তদন্তকারী আধিকারিকরা যে নথি চাইবেন, তা তাঁদের দিতে হবে। কোন দিন, কখন তদন্তকারী আধিকারিকরা ব্লাড ব্যাঙ্ক পরিদর্শনে গেলেন, তারও লিখিত রেকর্ড রাখতে হবে কর্তৃপক্ষকে। তদন্তে পাওয়া নথিপত্র পরবর্তী শুনানিতে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে। সেই রিপোর্ট দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্ট। মামলাকারীর তরফে রাজ্যের জমা দেওয়া রিপোর্টের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। ৩১ জুলাই জমা দেওয়া রিপোর্ট নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। এমনকী ৪ আগস্ট ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে গিয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ থাকলেও, তার প্রমাণস্বরূপ নথি কোথায় সেই প্রশ্নও ওঠে।
রাজ্যের পাল্টা অভিযোগ, একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্ক তদন্তে সহযোগিতা করছে না। প্রয়োজনীয় নথিও দেওয়া হয়নি। কীভাবে রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে? রক্তদান শিবিরে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক থাকছেন কি না? রক্তদান শিবিরে এমবিবিএস চিকিৎসক উপস্থিত থাকছেন কি না, এসব নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
এর পাশাপাশি রক্তদাতাদের উপহার বা অর্থ দেওয়ার অভিযোগ, বিভিন্ন শিবিরে বিশেষ কার্ড বিলি এবং ভবিষ্যতে সেই কার্ড দেখিয়ে রক্ত পাওয়ার ব্যবস্থার বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের কড়া বার্তা, মানুষের জীবন নিয়ে কোনও রকম অনিয়ম চলবে না। সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে মুচলেকা দিয়ে জানাতে হবে, কোনও অনৈতিক পদ্ধতিতে রক্ত সংগ্রহ করা হবে না।
অর্থাৎ, আপাতত ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত সংগ্রহ বন্ধ। এখন আদালতের নজর একসঙ্গে দু’দিকে। অনিয়মের তদন্ত এবং সাধারণ মানুষের রক্তের জোগান। এক সপ্তাহ পর তদন্তের রিপোর্টই ঠিক করবে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে নাকি খুলবে রক্ত সংগ্রহের দরজা।




