অস্ট্রেলিয়ার (Australia) মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই কার্যত রূপকথা লিখছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল তারা। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে দেখা গেল তাদের আরও দাপট। ওপেনার তানজিদ হাসানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দায়িত্বশীল ইনিংসে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের রাশ বাংলাদেশের হাতে।
দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ৩৫১। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে তাদের লিড ১৫৩ রানের। হাতে এখনও চার উইকেট। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাদের মাটিতেই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার (Australia) পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণের মিশেল ঘটিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। আটটি চার ও একটি ছয়-সহ ১০১ রান করে শেষ পর্যন্ত নাথান লিয়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাংলাদেশের ওপেনার। তাঁর এই ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিল। তানজিদই প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার, যিনি অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সেঞ্চুরি করলেন।
অসাধারণ এই সেঞ্চুরি নিয়ে তানজিদ টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই সেঞ্চুরি আমার জন্য খুবই বিশেষ কিছু। কারণ, এখানে এবারই প্রথম এসেছি। দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি পাওয়া আমার জন্য খুবই বিশেষ ব্যাপার।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তানজিদ বলেন, ‘দলের যেটা দরকার ছিল, সেটাই করার চেষ্টা করেছি। উইকেট বেশ ভাল ছিল। আমি স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছি। বল দেখে দেখে খেলেছি। বেশি কিছু করার চেষ্টা করিনি।’
তানজিদের সঙ্গে বাংলাদেশের ইনিংসকে আরো মজবুত করেন অধিনায়ক শান্ত। ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মোমিনুল হকও যোগ করেন ৪৯ রান। ফলে প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে অনেক বেশি চাপের মুখে পড়ে যায় প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া।
Tanzid Hasan has the first Test century of his career! 👏#MilestoneMoment | @NRMAInsurance | #AUSvBAN pic.twitter.com/lXkIJrXHAO
— cricket.com.au (@cricketcomau) August 14, 2026
তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পাওয়ার পর কিছুটা লড়াইয়ে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বড় রানের পরিকল্পনায় ধাক্কা দেয় তারা। কিন্তু দিনের শেষে মেহেদি হাসান মিরাজ ৩২ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের লিড আরও বাড়ানোর আশা জিইয়ে রেখেছেন। উইকেট ফেলার মরিয়া চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়া সারা দিনে আট জন বোলার ব্যবহার করলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের পুরোপুরি চাপে ফেলতে পারেননি।
আরও পড়ুন: মাত্র ১০০ টাকায় হাতবদল হল একটি আইএসএল ক্লাবের মালিকানা!
এর আগে প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। তাঁর ৬ উইকেটে ৫৫ রানের দুরন্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার কোনও ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্টে এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্কোরও।
প্রথম দিনেই বল হাতে অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা, দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে পাল্টা দাপট। ম্যাচ এখনও শেষ হয়নি, অস্ট্রেলিয়ার (Australia) দ্বিতীয় ইনিংস বাকি। কিন্তু ডারউইনের মাঠে বাংলাদেশের সামনে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় জয়ের।
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় (Australia) শেষ বার টেস্ট খেলেছিল ২০০৩-এ। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে ফিরে এসে প্রথম টেস্টেই এমন দাপট, তাও বিশ্বের এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে—তাই তানজিদের সেঞ্চুরি এবং বাংলাদেশের ১৫৩ রানের লিড শুধু স্কোরবোর্ডের সংখ্যা নয়, নতুন এক ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ার গল্পও বটে।
দেখুন:




