নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত এবং কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj) ওরফে নগেন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করে নেওয়া হল তাঁর কাছ থেকে। বৃহস্পতিবার, ১৩ অগস্ট তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের জারি করা নির্দেশে ওই সম্মান প্রত্যাহার ও বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন— নেতাজিকে অপমান বরদাস্ত করা হবে না। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সামনে এল।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য বা ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, সম্মান প্রদানের পর এমন কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি সরকারের নজরে এসেছে, যার গুরুত্ব ও প্রকৃতি অনন্ত মহারাজের ক্ষেত্রে বঙ্গবিভূষণ বহাল রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষের মত, ওই সম্মান বহাল রাখা তার মর্যাদা, গরিমা এবং উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে অনন্ত মহারাজের হাতে বঙ্গবিভূষণ তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজবংশী সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসাবেই দেওয়া হয়েছিল এই সম্মান। সেই সময় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদকে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দেওয়াকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল।
কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বদলে গেল পরিস্থিতি। নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর এবার তাঁর কাছ থেকে বঙ্গবিভূষণই ফিরিয়ে নিল রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন: মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে ৮০০ কিমি/ঘণ্টা! পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেনে চিনের বিশ্বরেকর্ড
সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj) আর বঙ্গবিভূষণ প্রাপক হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতে পারবেন না। ওই সম্মান থেকে কোনও স্বীকৃতি, সুবিধা বা প্রাপ্য দাবি করার অধিকারও তাঁর থাকবে না। পাশাপাশি বঙ্গবিভূষণ প্রাপকদের সরকারি তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে বঙ্গবিভূষণ গ্রহণের পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সম্মান হারালেন অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj)। নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগের আবহে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দেখুন: ডাক পরিষেবায় প্রযুক্তির ছোঁয়া, ড্রোনে পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত ভারতের চিঠি




