নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে কর্মরত নার্সের। এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে। এই হাসপাতালে স্ত্রী রোগ বিভাগের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে যুবতী নার্সের দেহ। খুন নাকি আত্মহত্যা সেটা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তবে এই মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে হাসপাতাল সূত্রে খবর, শরীরে কোনও ইঞ্জেকশন দেওয়ার জেরে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে ওই নার্সের। যা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই নার্সকে কে ইঞ্জেকশন দিয়েছিল? শৌচালয়ে ইঞ্জেকশন পৌঁছল কেমন করে? শৌচালয়ে এই নার্সকে ধর্ষণ করে ইঞ্জেকশন দিয়ে খুন করা হয়েছে কি? এমন সব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউতে ডিউটি করছিলেন ওই যুবতী নার্স। তারপর হঠাৎ তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্ত্রীরোগ বিভাগের শৌচালয় থেকেই নার্সের দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত ওই নার্সের দেহ ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হতে পারে ওই নার্সের মৃত্যুর কারণ। রাতে এইচডিইউতে কাজে যোগ দিয়েই ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ে চলে যান ওই নার্স। একঘণ্টা পরে তিনি না ফেরায় সহকর্মীরা শৌচালয়ের দরজার কাছে গিয়ে তাঁর নাম ধরে ডাকা হয়। তখন কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় দরজা ভেঙে অচৈতন্য অবস্থায় নার্সের দেহ উদ্ধার করেন কর্মীরা। চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালের বেডে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
কিন্তু কেন আত্মহত্যা করবেন ওই নার্স? তাঁর কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। তাহলে কি এটা আত্মহত্যা? নাকি পরিকল্পিত খুন? ওই যুবতী নার্সকে ধর্ষণ করা হয়নি তো? তারপর কুকর্ম ঢাকতেই কি এই খুন? এমন নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এটা আত্মহত্যা বলেই হাসপাতালের দাবি। যদিও পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এই ফেন্টানিল ইঞ্জেকশন কী কাজে লাগে? চিকিৎসকদের থেকে জানা গিয়েছে, রোগীদের ঘুম পাড়াতে ব্যবহার করা হয় ফেন্টানিল ইঞ্জেকশন। এই ইঞ্জেকশন নার্সের কনুইয়ের ভাঁজের শিরায় ইনজেক্ট করা হয়েছে অনুমান চিকিৎসকদের।
তাছাড়া দু’বছর আগে আরজি কর কাণ্ডের পরে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মার্চ মাসে আরজি কর হাসপাতালের লিফ্ট দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এক যুবকের। ওই মাসেই আরজি করে স্ট্রেচার না পেয়ে হেঁটে হেঁটে দোতলার শৌচালয়ে যেতে গিয়ে মৃত্যু হয় অসুস্থ এক প্রৌঢ়ের। এবার এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু নতুন করে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মৃত নার্সের নাম রূপালী বর্মণ। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ছিলেন। সম্প্রতি স্টাফ নার্স হিসেবে এনআরএস হাসপাতালে বদলি হয়ে আসেন। এখানে থাকতেন দমদমের এক বাড়িতে। এই ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে এসে হাজির হন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। নার্সের মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁর স্বামী রাহুল দাসও। এই অবস্থায় এনআরএস হাসপাতালে স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত করাতে চাইছেন না তিনি। লালবাজার থেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসারদের একটি দলও হাসপাতালে পৌঁছেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল এবং ডিসি (পূর্ব শহরতলি) সুবিমল পাল। এনআরএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মৃত নার্সের স্বামী যেখানে চাইবেন, সেখানেই ময়নাতদন্ত হবে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) জানান, ঘটনাস্থল সিল করে দেওয়া হয়েছে। হোমিসাইড শাখা তদন্ত শুরু করেছে।




