কলকাতায় পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ, না কি ফিফার নয়া টুর্নামেন্ট আসিয়ান কাপ? কাকে বেছে নেবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন? আপাতত এই দোলাচলের মধ্যে পড়েছে তারা।
দুইয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হতে পারে ভারতীয় ফুটবলকে। ৩ অক্টোবর একই সময়ে পড়তে পারে ফিফার টুর্নামেন্ট। ফলে বড়সড় সূচি-সংকটে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। সূত্রের খবর, আপাতত ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কলকাতার ম্যাচকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার কথা ব্রাজিলের। কিন্তু সেই দিনই শেষ হওয়ার কথা উদ্বোধনী ফিফা আসিয়ান কাপ। নতুন এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বে তিনটি করে ম্যাচ খেলার কথা প্রতিটি দলের। যারা ফাইনালে উঠবে, তারা খেলবে চারটি। প্রতিযোগিতার ফাইনালও নির্ধারিত ৩ অক্টোবর। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে জটিলতা।
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের সেরা সিনিয়র দলই খেলবে, আর আসিয়ান কাপে পাঠানো হতে পারে অন্য একটি দল বা অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত দল। কিন্তু ফিফার নিয়মই সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিফার নিয়মে একই আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আলাদা ‘বি’ দল বা অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানো যাবে না। অর্থাৎ, একসঙ্গে দুই জায়গায় দুই ভারতীয় জাতীয় দল খেলানো সম্ভব নয়। ফলে ব্রাজিল ম্যাচ এবং আসিয়ান কাপ— দু’টির মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এআইএফএফের সামনে।
সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ফেডারেশন। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ভারত সফরকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। ম্যাচ ঘোষণার পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। ফেডারেশনের কাছে এই ম্যাচের বাণিজ্যিক গুরুত্বও যথেষ্ট।
তবে ব্রাজিলকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তেও রয়েছে বড় সমস্যা। ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিলে ভারতীয় দল অন্তত তিনটি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেত। জাতীয় দলের জন্য নিয়মিত ম্যাচের অভাব নিয়ে যখন দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছে, তখন একটি ম্যাচের জন্য অন্তত তিনটি ম্যাচের সুযোগ ছেড়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই কারণেই ব্রাজিল ম্যাচের পাশাপাশি অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় আরও একটি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপে খেলা এাকাধিক দেশের সঙ্গে নাকি কথা বলছে ফেডারেশন। তাদের মধ্যে অন্তত একটির বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই— ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আসিয়ান কাপ ছাড়তে হলেও যাতে জাতীয় দলের ম্যাচসংখ্যা বেশি কমে না যায়।
বর্তমান ফিফা নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় একটি জাতীয় দল সর্বাধিক চারটি ম্যাচ খেলতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অক্টোবরের সূচিতে আরও ম্যাচ যোগ করতে চাইছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন।
ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে ভারত শেষ পর্যন্ত নাম প্রত্যাহার করলে প্রশাসনিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে। দেরিতে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ালে আর্থিক জরিমানা বা অন্য কোনও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে ফেডারেশনকে। অতীতে অন্যান্য সদস্য সংস্থার ক্ষেত্রেও শেষ মুহূর্তে প্রতিযোগিতা থেকে সরে যাওয়ার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুধু অক্টোবর নয়, নভেম্বরের সূচি নিয়েও চিন্তা রয়েছে ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনের। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেই সময়ই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থাকায় ফের সূচি-সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের মতো তারকায় ভরা দলের বিরুদ্ধে কলকাতার ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলের কাছে নিঃসন্দেহে বিরাট আকর্ষণের। কিন্তু সেই আকর্ষণের জন্য যদি নতুন ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়, তা হলে জাতীয় দলের নিয়মিত ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ধাক্কা খেতে পারে। তাই এক দিকে ব্রাজিল ম্যাচের রোমাঞ্চ, অন্য দিকে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ— দুইয়ের ভারসাম্য কী ভাবে রক্ষা করে ফেডারেশন, এখন সেটাই দেখার।




