• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 26 September, 2026

নাটকে আজান কেন? বাঘাযতীনে ‘আদাব’ ঘিরে তুলকালাম

সমাজের কড়া ও রূঢ় বাস্তবকে তুলে ধরার জন্য সমাজের বিদ্বজ্জনেরা বারবার নির্ভর করেছেন নাটকের উপরে। স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে শুরু বঙ্গভঙ্গ

নাটকে আজান কেন? বাঘাযতীনে ‘আদাব’ ঘিরে তুলকালাম

PIC- SOCIAL MEDIA

সমাজের কড়া ও রূঢ় বাস্তবকে তুলে ধরার জন্য সমাজের বিদ্বজ্জনেরা বারবার নির্ভর করেছেন নাটকের উপর। স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে শুরু করে বঙ্গভঙ্গ ও তার প্রতিবাদ—বারবার দেখা গিয়েছে নাটকের মঞ্চে। সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে হয়েছে একাধিক কালজয়ী নাটকও। কিংবদন্তি বাদল সরকার থেকে শুরু করে মন্মথ রায়, রমাপ্রসাদ বণিক, উৎপল দত্ত, খালেদ চৌধুরী, অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফি, ঋত্বিক ঘটক থেকে শুরু করে স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিভাস চক্রবর্তী—বারবার নাটককে হাতিয়ার করে সমাজ সংস্কারের কাজ করেছেন। প্রয়োজনে নিজেদের নাটককে ব্যবহার করেছেন প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবেও। নাটকের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সমাজের গলদ কোনটা। কিন্তু কখনও প্রশ্ন ওঠেনি, কেন নাটককেই এভাবে ব্যবহার করা হবে? বা কেন নাটকে এমনটা লেখা হবে?

কিন্তু এই প্রশ্ন উঠল। আর তা উঠল রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে। সমরেশ বসুর লেখা ‘আদাব’ নাটকের শো চলছিল বাঘাযতীনে। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই নাটকটি নির্বাক। ছিল না কোনও সংলাপ। কেবল আজানের সুর ব্যবহার করা হচ্ছিল আবহসঙ্গীত হিসেবে। সেখানে আচমকাই ঢুকে পড়েন বেশ কিছু মানুষ। তাঁরা নাটক দেখানো বন্ধ করার কথা বলেন। কারণ, তাতে রয়েছে আজানের শব্দ। পরে দর্শকদের পাল্টা প্রতিবাদে পিছু হটেন তাঁরা।

নাটকের পরিচালক স্বপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘আচমকা নিচ থেকে ২-৪ জন চিৎকার করে নাটকটি বন্ধ করতে বলেন। আমরা বলি যে শুধু আজান নয়, মন্দিরের ঘণ্টাও আছে। আমরা শান্তির কথা বলি, রবীন্দ্রনাথের কথা বলি। আমার খুবই কষ্ট হয়েছে। এরপর দর্শক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করেন।’

এই বিষয়ে রুদ্রনীল ঘোষ জানান, ‘পুরোটা জানি না। একদিকে কিছু অস্থিরতা কাজ করছে, অন্যদিকে তাৎক্ষণিক মানসিকতা কাজ করছে। কোনও একটা ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেওয়াই উচিত। একটা ঘটনার পর প্রেক্ষিত বোঝা উচিত। তারপর প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত।’