অনুর্ধ্ব ১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে ভারতীয় দলের কোচ ও ম্যানেজার নির্বাচন নিয়ে বহু নাটকের পর অবশেষে ঠিক হয়েছে বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজই (Bibiano Farnandes) কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে যাবেন এবং দলের ম্যানেজার হিসেবে রঞ্জিত বাজাজকেই পাঠানো হবে। তাদের নিজস্ব ভূমিকাও স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। তার পরেও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত দুই মেরুতে থাকা দুই ব্যক্তি একই দলের মধ্যে থেকে কাজ করবেন কি না। বিবিয়ানো অবশ্য এই ব্যবস্থায় রাজি বলে জানিয়েছেন।
যখন এই ঘোষণা প্রথম করে ফেডারেশন, তখন দুজনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, একে অপরের সঙ্গে ভারতীয় দলের সঙ্গে যেতে রাজি নন। বিবিয়ানো (Bibiano Farnandes) বলেছিলেন, রঞ্জিত বাজাজ ম্যানেজার হিসেবে গেলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। বিবিয়ানো শুধু বলেছিলেন। বাজাজ এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন এবং জানিয়ে দেন, তিনি শুধু ম্যানোজারের ভূমিকায় ভারতীয় দলকে নিয়ে আজারবাইজানে এই ফুটবল উৎসবে যাবেন না।
কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে বাজাজই প্রথম ডিগবাজি খেয়ে জানিয়ে দেন দেশের স্বার্থে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাবেন এবং দলের সঙ্গে যাবেন। এর পরই শুরু হয় ফেডারেশন কর্তাদের খেলা। তাঁরা দু’জনকে তাঁদের কাজ একেবারে স্পষ্ট ভাবে ভাগ করে দেন। কোচকে জানিয়ে দেন, দল বাছাই এবং কোচিংয়ের সম্পুর্ণ দায়িত্ব তাঁর।
বিবিয়ানোর (Bibiano Farnandes) আশঙ্কা, বাজাজ এই ব্যাপারে লাগাতার নাক গলিয়ে তাঁকে ঠিক মতো কাজ করতে নাও দিতে পারেন। তবে ফেডারেশন কর্তারা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন, এমনটা হবে না। কোচিং এবং দল নির্বাচন নিয়ে কেউ তাঁর সিদ্ধান্তে নাক গলাবেন না।
২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা তিনটি এএফসি অনুর্ধ্ব ১৬/১৭ এশিয়ান কাপে যিনি ভারতের কোচ ছিলেন, ইরানকে ২-১-এ হারিয়ে এ বছরের এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করার ক্ষেত্রে যে কোচের অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই বিবিয়ানোর (Bibiano Farnandes) উপর সম্পুর্ণ আস্থা রয়েছে ফেডারেশনের।
অন্যদিকে, রঞ্জিত বাজাজকে বলে দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন বিবিয়ানোর (Bibiano Farnandes) কাজে নাক না গলান এবং সম্পুর্ণ ভাবে দলের প্রশাসনিক কাজকর্ম, যেমন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফের থাকা, খাওয়া, প্র্যাকটিসে-যাতায়াত, দেশ থেকে আজারবাইজানে যাওয়া এবং সেখান থেকে ফেরার, কোনো খেলোয়াড় বা স্টাফের মাঠের বাইরে কোনো সমস্যা হলে তার সমাধান করা, মাঠে কারো গুরুতর চোট হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা- ইত্যাদি তদারকি করেন। অর্থাৎ, মাঠের মধ্যে যা যা হবে, তার সব দায়িত্ব বিবিয়ানোর। মাঠের বাইরের দায়িত্ব বাজাজের। কেউ যেন কারো কাজে নাক না গলান, এই কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে সন্দেহ পোষণ করা হয়েছে, বাজাজ আদৌ এই ভূমিকা পালনে রাজি হবেন কি না এবং শেষ পর্যন্ত ম্যানেজার হিসেবে দলের সঙ্গে তিনি যাবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।
মিনার্ভা অ্যাকাডেমির কর্ণধার রঞ্জিত বাজাজ ইতিমধ্যেই তাঁর যুব দল নিয়ে একাধিক জায়গায় গিয়েছেন এবং একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাফল্য পেয়েছেন। সেই কারণেই তিনি ফেডারেশনের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ভারতের বর্তমান অনুর্ধ্ব ১৫ দলটি তাঁর দায়িত্বে ছেড়ে দিতে। তিনি এই দলটাকেই ২০৩৪ বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কাছে কোনো কোচিং ডিগ্রি নেই। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তিনি কোনো জাতীয় দলের কোচ হতে পারেন না।
তিনি ফেডারেশনকে পরামর্শ দেন, ম্যানেজার হিসেবেই তিনি দলের সঙ্গে যেতে চান এবং লাইসেন্সধারী কোচেরা তাঁর অধীনে থেকে কাজ করুক। তাতেও ভারতীয় দলকে আসন্ন অনূর্ধ্ব ১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে ভারতকে সফল করে তুলবেন তিনি। কিন্তু ফেডারেশন সেই ঝুঁকি না নিয়ে অনুর্ধ্ব ১৫/১৬ স্তরে সফল ভাবে কাজ করা কোচ বিবিয়ানো ফানান্ডেজকেই (Bibiano Farnandes) দায়িত্ব দেয় এবং বাজাজকে শুধু ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু কয়েকদিন আগেও যেখানে বাজাজ বলেছিলেন, ‘শুধু ম্যানেজারের ভূমিকা পালন করার জন্য আমি ভারতীয় দলের সঙ্গে যাব না, এ জন্য আমি ভারতীয় দলের দায়িত্ব নিতে চাইনি। এই কাজের জন্য ফেডারেশন অন্য কাউকে বেছে নিক’। সেই বাজাজ তাঁর কাজগুলি জানার পর কি শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে যেতে রাজি হবেন?
দেখুন: উত্তরাখণ্ডে জলস্রোতে সেতু বিপর্যস্ত, নজরদারি বাড়াল প্রশাসন
ফেডারেশনের এই দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার খবর জানার পর বাজাজ এখন পর্যন্ত তাঁর প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ভারতীয় ফুটবল মহল।




