• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 7 August, 2026

মেদিনীপুরের হোটেলগুলিতে ১৩ দফা নির্দেশিকা জেলা পুলিশের, নেপথ্যে ভয়ঙ্কর কাণ্ড

রেলশহরে মধুচক্রের রমরমা সবচেয়ে বেশি। এখানে অন্যান্য জেলা থেকে শুরু করে ভিন রাজ্য থেকেও মানুষজন আসেন

মেদিনীপুরের হোটেলগুলিতে ১৩ দফা নির্দেশিকা জেলা পুলিশের, নেপথ্যে ভয়ঙ্কর কাণ্ড

Medinipur Police Photo-SNS

হোটেল, লজ, স্পা সেন্টার, গেস্ট হাউজ থেকে শুরু করে রিসর্ট পর্যন্ত সব জায়গায় দেদার মধুচক্র চলছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। আর তারপর থেকে পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চলতে থাকলে পরিবেশ নষ্ট হবে রেলশহরের বলে মনে করা হচ্ছে। মেদিনীপুর, খড়গপুর থেকে শুরু করে বেলদা, নারায়ণগড়, মকরামপুর-সহ একাধিক এলাকায় হোটেল, লজ, গেস্টহাউস, স্পা ও রিসর্টে রমরমিয়ে মধুচক্র চলছে বলে অভিযোগ। বিজেপি সরকারের আমলে এসব বরদাস্ত করা যে হবে না তা বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ। আর তাই লজ, হোটেল, রিসর্টে সমস্ত ধরনের অবৈধ কাজকর্ম বন্ধ করতে কড়া অভিযান শুরু করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।

দুপুর এবং রাতে এসব কাজ বেশি হচ্ছে বলে পুলিশ খবর পেয়েছে। বাইরে থেকেও মেয়েরা আসছে মধুচক্রে যোগ দিতে। এলাকার অনেক গৃহবধূরা এই কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ। সুতরাং এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে খড়গপুর শহরের একাধিক হোটেল, স্পা এবং আবাসনে অভিযান চালিয়ে একাধিক পুরুষ ও মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবার একের পর এক গজিয়ে ওঠা একাধিক অবৈধ স্পা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দু’দিন আগে রাতে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশারা বানোর নেতৃত্বে নারায়ণগড় থানা এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশে একটি রিসর্টে অভিযান চালানো হয়। আর সেখান থেকে মালিক-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচজন যুবতীকেও উদ্ধার করা হয়েছিল।

রেলশহরে মধুচক্রের রমরমা সবচেয়ে বেশি। এখানে অন্যান্য জেলা থেকে শুরু করে ভিন রাজ্য থেকেও মানুষজন আসেন। তাঁরাই এইসব হোটেল, রিসর্ট, স্পা সেন্টারে গিয়ে থাকেন। আর সেখানে তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যুবতী থেকে গৃহবধূদের বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে বেড়ে গিয়েছে মদ্যপানও। সুতরাং রেলশহরের হোটেল, রিসর্ট, স্পা থেকে মদ্যপ অবস্থায় বের হতে দেখা যাচ্ছে মহিলাদের। যা সমাজের বুকে খারাপ বার্তা বহন করছে। এইসব মহিলাদের দেদার ধুমপান করতে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্য রাস্তায়। তাই পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘যে কোনও ধরনের যৌন-কেলেঙ্কারি, মধুচক্র, মানব-পাচার এবং নারী নির্যাতন বন্ধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। হোটেলগুলিতে সমস্ত ধরনের অবৈধ কাজকর্ম বা সেক্স র‌্যাকেট বন্ধ করতে অভিযান শুরু হয়েছে। হোটেলের রেজিস্ট্রার খতিয়ে দেখব আমরা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা হোটেলগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হবে।’

এই অবস্থায় খড়গপুর শহরের মালঞ্চের প্রেমহরি ভবনে শহরের হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশারা বানো, এসডিপিও সিদ্ধার্থ ঢাঙ্গি এবং শীর্ষ পুলিশ কর্তারা। সেখানে হোটেল মালিকদের ১৩ দফা নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া অতিথিদের প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। বিদেশি নাগরিক হলে বিশেষ নিয়ম মেনে চলতে হবে। সিসি ক্যামেরার নজরদারি এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে। মাদক সেবন, জুয়া, মধুচক্র বরদাস্ত করা যাবে না। প্রত্যেকটি হোটেলেই সেই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।