মাঝরাতে আচমকা প্রসবযন্ত্রণা শুরু। তড়িঘড়ি ডাকা হয় গাড়ি। কিন্তু মাঝপথেই ওই ছুটন্ত ক্যাবে জন্ম নিল এক সদ্যোজাত! অন্য জন তখনও মায়ের গর্ভে। তারপর যা ঘটল, তা নিয়ে একটা আস্ত উপন্যাস লেখা যেতে পারে। মা এবং দুই শিশু সকলেই এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সম্প্রতি এই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা।
মাঝরাতে বিপত্তি
বিহারের দ্বারভাঙ্গার বাসিন্দা প্রীতি (নাম পরিবর্তিত)৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। বয়স ২৯ বছর। এসেছিলেন সল্টলেকে (Salt Lake) এক আত্মীয়ের বাড়ি। গত ১৯ জুলাই মাঝরাতে তাঁর প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। সকাল ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন পরিজনেরা।
ক্যাবের মধ্যেই প্রসব
রাস্তাতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সকাল ৬টা ৪০ নাগাদ চলন্ত ক্যাবের মধ্যেই (Cab Delivery) প্রথম সন্তানের জন্ম দেন প্রীতি। প্রথম সন্তানটি কন্যাসন্তান। যমজ সন্তানের (Twin Baby) দ্বিতীয় জন তখনও গর্ভে ছিল। দ্রুত তাঁদের ব্রডওয়ে এলাকার মণিপাল হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। উন্নত এনআইসিইউ (NICU) পরিষেবার জন্য তাঁদের দ্রুত সল্টলেকের ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়।
হাসপাতালে দ্বিতীয় সন্তান
সল্টলেকের হাসপাতালের ইমারজেন্সি ট্রায়াজ এরিয়ায় দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে জমতে থাকা উদ্বেগের মেঘ কাটিয়ে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন প্রীতি। যদিও প্রাথমিকভাবে শিশুটির কোনও সাড়াশব্দ ছিল না। চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন। এবং সফলও হন। কেঁদে ওঠে সদ্যোজাত। জীবনের অরূপকথার আলোয় ঝলমল করে ওঠে হাসপাতালে চৌহদ্দি।
মা ও শিশুরা
মা প্রীতি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তাঁকে কয়েকদিন পরেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। যদিও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার তাগিদে যমজ শিশুদের (Twin Delivery) বেশ কিছুদিন এনআইসিইউ-তে রাখা হয়। কন্যাসন্তানটি ৭ দিন পর ছুটি পায়। পুত্রসন্তানটি ৯ দিন পর বাড়ি ফেরে। জরুরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. পারমিতা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে সবিস্তারে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপেই মা ও শিশুরা ভালো আছেন। চিকিৎসকদের তৎপরতা এবং সঠিক সমন্বয়ের ফলেই এমন জটিল মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি (Medical Emergency) সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।




