কালীঘাট তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনজন সাংসদ। আর সেভাবেই কাটছিল দিন। তারপর এনসিপিআই দলে যুক্ত হন তাঁরা। কিছুদিন আগে এনডিএ বা বিজেপিতে যাবেন না বলে ঘোষণা করেছিলেন। তারপর কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন তাঁরা বলে সূত্রের খবর। এমনকী কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, সাতজন সাংসদ ফিরে আসতে চলেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন ছবি সামনে এল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন ওই তিনজন সংখ্যালঘু সাংসদ বলে সূত্রের খবর। যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করবেন এনসিপিআই-র তিন মুসলিম সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, এনডিএ-র বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই-র এই তিন মুসলিম সাংসদ। তাঁরা সাফ জানিয়েছিলেন, এনসিপিআই-তে থাকলেও এনডিএ-র শরিক হবেন না। তাহলে কেন এই সাক্ষাৎ করতে চাইছেন? উঠছে প্রশ্ন। বৃহস্পতিবারই এই তিন সাংসদের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা। যা নিয়ে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়েছে নয়াদিল্লিতে।
এনসিপিআইয়ের তিন সাংসদের দাবি, নিজেদের কেন্দ্রের নানা সমস্যা, দাবিদাওয়া এবং উন্নয়ন নিয়েই কথা বলবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। তাঁরা নির্বাচিত সাংসদ হিসাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যদিও এখন নিজেদের এলাকায় এই তিনজন এখন ঢুকতে পারছেন না। কারণ যে ভোটাররা ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা এখন তা ফেরত চান। বিজেপি বিরোধী ভোটে জিতে বিজেপির কোলে দোল খাওয়া মেনে নিতে রাজি নন তাঁরা। এমন খবরও পেয়েছেন এই তিন সাংসদ।
তাহলে কি নিজেদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসছেন তিনজন? এই প্রশ্নও এখন উঠতে শুরু করেছে। তবে কোনও একটা অঙ্কেই এই সাক্ষাৎ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কদিন আগে এনডিএ বৈঠকে না থেকেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বাংলার পর্যবেক্ষক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তারপর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেন যে, ১৬ পাতার নথি জমা দিয়েছেন তিনি। যেখানে এনসিপিআই-র ২০ সাংসদের এলাকার দাবিদাওয়ার কথা উল্লেখ আছে। এদিনের বৈঠকে অমিত শাহ তাদের কোনও আশ্বাস দেন কিনা সেটাও দেখার বিষয়। এখন এই তিন সাংসদের মন্তব্য এবং অবস্থান বিজেপিকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারপর এমন সাক্ষাৎ ঘটলে তা হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।




