প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সোনম ওয়াংচুক। কারণ যে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের হাত থেকে স্যুপ খেয়ে অনশন ভঙ্গ করেছিলেন তা দ্রুত সামনে এসেছিল। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দ্রুত ওই ছবি প্রকাশ করে তাঁর বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছিল। আর এই ঘটনার পর থেকে রাজনীতিবিদদের উপরে যে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন তাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন, ঠিক হয়েছিল বিরোধী দলের নেতাদের ও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে অনশন প্রত্যাহার করার কসথা ঘোষণা করা হবে। তার আগে কোনো ছবি প্রকাশিত হবে না। নাড্ডারা এসেছিলেন গভীর রাতে। ওয়াংচুক জানান,‘আমি ওঁদের বলি, আমি অনশনভঙ্গ করছি। কিন্তু খবরটা আমার শর্তে প্রকাশ করতে হবে, বিরোধী দলের নেতাদের এবং সম্ভব হলে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলে। তা হলে বোঝা যাবে যে, এটা একটা যৌথ উদ্যোগ।’
মন্ত্রীরা সেই প্রস্তাব মেনেও নিয়েছিলেন এবং তখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)-র আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। ‘‘মন্ত্রীরা নিজেদের ফটোগ্রাফার নিয়ে এসেছিলেন। আমি আইবি-র আধিকারিকদের বলি, আপনারা এই বোঝাপড়ার সাক্ষী। আমি যতক্ষণ না সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সামনে অনশন ভাঙার কথা বলছি, ততক্ষণ কেউ এই ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না।’’ বলেছেন ওয়াংচুক। ‘‘কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যে আইবি-র এক জন আধিকারিক হাঁফাতে হাঁফাতে এসে আমাকে বলেন, স্যর কী ভাবে হয়েছে জানি না, তবে সব টিভি চ্যানেলে ছবিগুলো দেখাচ্ছে।’’
ওয়াংচুকের বক্তব্য, সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরে আধিকারিকদের হাত থেকে স্যুপ বা ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙাই লাদাখের প্রথা। কিন্তু সেটা শুধু শাসক দলের উপস্থিতিতই ঘটছে, এমন ভাবে কখনও দেখানো হয় না। তিনি বলেন, ‘তাঁরা প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন। তাই এই সমস্ত নেতার উপর থেকে আমার ভরসা উঠে গিয়েছে।’
অনশনভঙ্গের পরেই সিজেপি নেতাদের সঙ্গে ওয়াংচুকের সম্পর্কের একটা শীতলতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। অনশন প্রত্যাহারকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানালেও আন্দোলন তুলে নিতে রাজি হননি অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাসেরা। জানিয়ে দেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি থেকে কোনও মতেই সরবেন না তাঁরা। কেন্দ্রীয় সরকারও বুঝে যায়, ওয়াংচুকের সঙ্গে সমঝোতা করে আরশোলাদের আন্দোলন ভাঙা সম্ভব হবে না। ২৫ তারিখ দুপুরে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র।
তার পরেও ওয়াংচুকের সঙ্গে দৃশ্যতই দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন ককরোচ নেতারা। ওয়াংচুকের সঙ্গে আর হাসপাতালে দেখা করতে যাননি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওয়াংচুক যখন রাজঘাটে যান, তখনও তাঁর সঙ্গে সিজেপি-র কোনও নেতা ছিলেন না। ওয়াংচুক ফিরে গিয়েছেন লাদাখে। ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পরে এক হোটেলে নাচেগানে ককরোচদের সেলিব্রেশনের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, সংযম ও বিনয়ের সঙ্গে উদ্যাপন করা উচিত। যা ককরোচদের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে।




