যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। রাশিয়া-ইউক্রেন (Russia-Ukraine) সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই বাড়ছে হামলার তীব্রতা। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনের (Ukraine) রাজধানী কিয়েভে (Kyiv) ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া (Russian missile)। এই হামলায় অন্ততপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন (Ukraine) প্রশাসন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৪ জন। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের (Ukraine) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)এই হামলাকে ‘আগের চেয়েও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘শত্রুরা নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এই হামলা আগের তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক।’
আরও পড়ুন: ম্যাসাচুসেটসে ১৫ আগস্ট ‘ইন্ডিয়া ডে’, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের অবদানের স্বীকৃতি আমেরিকায়
ইউক্রেনের (Ukraine) সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কিয়েভে (Kyiv) হামলা চালায় রুশ বাহিনী (Russian missile)। কিয়েভের (Kyiv) সামরিক প্রধান তিমুর ক্যাচেনকোর দাবি, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, গুদামঘর, লজিস্টিক হাব এবং সামরিক সরবরাহ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই কেন্দ্রগুলিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম মজুত ছিল বলে জানা গিয়েছে। হামলায় একটি সামরিক অস্ত্রবাহী জাহাজও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের।
ইউক্রেন (Ukraine) সেনার তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় রাশিয়া (Russian missile) ২৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ৪টি সুপারসনিক মিসাইল এবং ১১৫টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। ইউক্রেন (Ukraine) দাবি করেছে, ১১৫টি ড্রোনের মধ্যে ৯৮টিকে তারা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে লাগাতার হামলায় ইউক্রেনের (Ukraine) মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও অস্ত্রভাণ্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকা-সহ মিত্র দেশগুলির কাছে আরও মিসাইল ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আবেদন জানিয়েছে কিয়েভ।
এদিকে, সম্প্রতি উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। শনিবার কিয়েভ (Kyiv) ও তার আশপাশের এলাকায় রুশ হামলায় (Russian missile) ১০ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় (Ukraine) ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একটি বড় কন্টেনারবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়া (Russian missile)ও ইউক্রেন (Ukraine) উভয় পক্ষই কৌশলগত পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার বদলে ফের সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




