• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 5 August, 2026

আধুনিক গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চায় নবান্ন, অবিলম্বে রাস্তা মেরামতির নির্দেশ

এগুলি করার মূল কারণ, গ্রামবাংলায় যাতে অপরিকল্পিত নির্মাণের জেরে ভবিষ্যতে জল জমা, যান চলাচলের সমস্যা বা পরিবেশগত ক্ষতি না হয়

আধুনিক গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চায় নবান্ন, অবিলম্বে রাস্তা মেরামতির নির্দেশ

Nabanna Photo-SNS

অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে রাস্তা মেরামতির কাজে নামার নির্দেশ দিল নবান্ন। এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে পূর্তদপ্তরের প্রত্যেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রত্যেক জোনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত ২৮ জুলাই বৈঠক করে আগামী ১০ অক্টোবর সময়ের মধ্যে রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই কাজে নামে পূর্তদপ্তর। কিন্তু দেখা যায়, রাস্তার হালহকিকত এবং মেরামতি সংক্রান্ত কোনও তথ্যই তোলা হয়নি নির্দিষ্ট ‘সমীক্ষা’ পোর্টালে। তাই ৩ আগস্টের মধ্যে পোর্টালে সব তথ্য তোলার কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন তার অনেকটাই পূর্তদপ্তরের অফিসারদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। তাই এবার দ্রুততার সঙ্গে রাস্তা মেরামতির কাজে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্রামবাংলার উন্নয়নেও বড় ধরণের নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। শহরের মতোই পঞ্চায়েত এলাকাতেও পরিকল্পিত উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দপ্তর। আগামী দিনে অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণ, জলাজমি ভরাট এবং দুর্বল পরিকাঠামোর সমস্যা যাতে না থাকে এবং আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা যায় তাই এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত এলাকায় যে কোনও বাড়ি বা বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে চলতে হবে। শহরাঞ্চলের মতোই রাস্তার প্রস্থ, নিকাশি ব্যবস্থা, জলনিকাশের পথ, খোলা জায়গা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বিবেচনা করেই নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

এগুলি করার মূল কারণ, গ্রামবাংলায় যাতে অপরিকল্পিত নির্মাণের জেরে ভবিষ্যতে জল জমা, যান চলাচলের সমস্যা বা পরিবেশগত ক্ষতি না হয়। কেমন করে একটি দীর্ঘমেয়াদি গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি তৈরি করা যায় সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। প্রত্যেকটি গ্রাম বা গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। সেটা অনুযায়ী উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরির বিষয়টিও পৃথকভাবে ভাবা হচ্ছে। জলাজমি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের উপর আরও কঠোর নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কারণ, জলাজমি ধ্বংস করে ফেললে বৃষ্টির জল ধরে রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যায়। ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও তাতে প্রভাবিত হয়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে জলাজমিতে নতুন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে প্রশাসন বলে সূত্রের খবর।

তাছাড়া গ্রামীণ রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশের একাধিক রাজ্যে প্লাস্টিক মিশিয়ে বিটুমিনের রাস্তা তৈরির ইতিবাচক ফলও মিলেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে।  প্লাস্টিক মিশিয়ে তৈরি রাস্তা তুলনামূলকভাবে বেশি মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী এবং ভারী বৃষ্টিতেও কম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে। প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণও কমানো সম্ভব। তাতে একদিকে যেমন রাস্তার গুণগত মান বাড়বে,  তেমন প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাতেও নতুন দিশা মিলতে পারে।