দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে পাঁচ বছর আগে চাকরি হারিয়েছিলেন রেলসুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) এক কর্মী। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) রায়ে স্বস্তি মিলল তাঁর। শুধু একটি বিয়ের ছবি, স্ত্রীর অভিযোগ কিংবা অসম্পূর্ণ রেজিস্টারের ফটোকপির উপর ভর করে দ্বিতীয় বিয়ে প্রমাণ করা যায় না বলে স্পষ্ট জানিয়ে রেলের বরখাস্তের নির্দেশ খারিজ করে দিল আদালত (Calcutta High Court)। একই সঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে ওই কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদ ও বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court) জানিয়ে দেয়, এত গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা আবশ্যক। কেবল অভিযোগকারীর বক্তব্য বা একটি ছবি আইনের চোখে যথেষ্ট নয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। ওই কর্মীর স্ত্রী রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন, বিবাহবিচ্ছেদ না করেই তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। ২০২১ সালে চার্জশিট দেওয়ার পর তদন্তকারী আধিকারিক অভিযোগকে সত্য বলে রিপোর্ট দেন এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় ওই কর্মীকে।
বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেন তিনি। আদালতে রেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একটি মৌনীবাবা মঠের রেজিস্টারে দ্বিতীয় বিয়ের নথি রয়েছে এবং একটি বিয়ের ছবিও তদন্তে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু আদালত (Calcutta High Court) দেখতে পায়, ওই রেজিস্টারের ফটোকপিতে বর-কনে বা কোনও সাক্ষীর স্বাক্ষর নেই।
আরও পড়ুন: আরএসএসের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন, নেতাজি অবমাননার ইস্যুতে সরব মমতা
এমনকি যে ছবি দেখানো হয়েছে, তা কোথায়, কবে এবং কী পরিস্থিতিতে তোলা হয়েছিল, তারও কোনও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা নেই। ফটোগ্রাফারকেও সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ, দ্বিতীয় বিয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে চাকরি কেড়ে নেওয়ার আগে আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী অকাট্য প্রমাণ প্রয়োজন। প্রমাণের অভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত টিকতে পারে না।
এর পরই আদালত (Calcutta High Court) রেলের বরখাস্তের নির্দেশ বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে কর্মীকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি চাকরিচ্যুত থাকার পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে ‘নোশনাল সার্ভিস বেনিফিট’ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রমাণের গুরুত্ব এবং কর্মীর ন্যায্য অধিকার রক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




