• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 4 August, 2026

বেআইনি ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে শোকজ নোটিস স্বাস্থ্যদপ্তরের, আপাতত বন্ধের নির্দেশ জারি

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের একদিন পরে ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নোটিস পাঠিয়ে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক

বেআইনি ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে শোকজ নোটিস স্বাস্থ্যদপ্তরের, আপাতত বন্ধের নির্দেশ জারি

Nandigram CMOH Asit Kumar Dewan Photo-SNS

গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। শহরজুড়ে ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একাধিক বেআইনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে শোকজ নোটিস পাঠাল স্বাস্থ্য দপ্তর। এদিন নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলায় ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে শোকজ নোটিস ধরানো হলো। শুধু তাই নয়, আপাতত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই সেন্টারগুলি যথাযথ কাগজ দেখাতে পারেনি। উপযুক্ত কাগজ দেখাতে পারলে আবার তা খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচকে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলে সূত্রের খবর।

গত ৩১ জুলাই ওই নির্দেশের পর মঙ্গলবার ওই স্বাস্থ্য জেলার অধীনে থাকা ২৮টি বেআইনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের শোকজ নোটিস পাঠালেন সিএমওএইচ অসিত দেওয়ান। একইসঙ্গে ক্লোজার নোটিসও পাঠানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম হাসপাতাল মোড়, নন্দীগ্রাম বাইপাস, নন্দীগ্রাম বাজার ছাড়াও বেআইনি সেন্টার রয়েছে কাঁথির দারুয়া, কাঁথি স্কুল বাজার, খেজুরির কলাগেছিয়া, কামারদা হসপিটাল রোডে। এই নিয়ে মোট ২৮টি সেন্টারকে ক্লোজার নোটিস দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় তার তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন সিএমওএইচ। যাতে কেউ একজনও যদি নির্দেশ অমান্য করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা রাখে তাহলে যেন পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের একদিন পরে ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নোটিস পাঠিয়ে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসিতকুমার দেওয়ান সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলায় এসে আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, প্রাইভেট ল্যাব এবং ইনভেস্টিগেশন সেন্টারগুলিতে দ্রুত এনকোয়ারি করতে। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে সেসব দ্রুত বন্ধ করতে বলা হয়। ডিস্ট্রিক্ট লেভেল অফিসারদের দিয়ে সোমবার এই সার্ভে করিয়েছি। দিনের শেষে দেখেছি প্রায় ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনও বৈধ কাগজ নেই। ওদের ক্লোজার নোটিস দিয়েছি। থানাকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। শোকজ নোটিসও দেওয়া হয়েছে। কেন এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছিল সেটা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে হবে। যতক্ষণ না বৈধ কাগজ দেখাতে পারবে ততক্ষণ সেন্টারগুলি বন্ধ থাকবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় কোনও কোনও চিকিৎসক নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন বলে তাঁর কাছে নালিশ আসে। তিনি এই নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, হাসপাতালের পরিষেবায় কোনও ধরনের দালালি অথবা কাটমানি মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালেই আছে। তাই অকারণে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং রোগীদের সুরক্ষায় অবৈধ বেআইনি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।