আদালতের নির্দেশে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের পর ফের আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে সক্রিয় হল সিবিআই। তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা। নতুন তদন্তকারী অফিসারের হাতে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এটিই দ্বিতীয়বার ঘটনাস্থলে সিবিআইয়ের উপস্থিতি।
সিবিআই সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা মূলত হাসপাতালের তৃতীয় তলা, যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল, এবং সপ্তম তলার সংশ্লিষ্ট অংশ খতিয়ে দেখেন। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত তথ্যগুলি পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, সিবিআই আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় খুঁটিয়ে দেখেন। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে চার্জশিটে নাম থাকা ব্যক্তিদেরও ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সিবিআই সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এর আগে আরজি কর মামলার দন্তকারী অফিসারও (আইও) বদলে দিল সিবিআই। সীমা পাহুজার জায়গায় ওই ঘটনার তদন্তকারী অফিসার করা হয়েছে সন্দীপনি গর্গকে। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে হাজির ছিলেন তিনি। নতুন বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আদালতে তারা তিন পাতার একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই সঙ্গে এই মামলার নথি খতিয়ে দেখার জন্য আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে।
আরজি কর মামলায় সীমার ভূমিকা অনেক দিন ধরেই প্রশ্নের মুখে। তা নিয়ে এর আগে একাধিক বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। শিয়ালদহ আদালত চত্বরে এক বার সীমার দিকে আঙুল উঁচিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা। সীমাকে ‘শয়তান’ও বলেছিলেন। অভিযোগ, আরও অনেকের বিরুদ্ধে অনেক তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা যেত। কিন্তু সীমা তা করেননি। তথ্যপ্রমাণ তাঁর অঙ্গুলিহেলনে লোপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় গত মে মাসে হাসপাতালের ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সীমার দিকে আঙুল তুলেছিলেন। এমনকি তিনি সীমাকে অভিযুক্ত হিসাবে তদন্তের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছিলেন। সেই অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।




