বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উন্নতির দাবি করে আসছেন। শুক্রবার নবান্নে রাজ্যের আয় বৃদ্ধির বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঘোষণা এসেছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, জুলাই মাসে রাজ্যের কোষাগারে জিএসটি বাবদ ৫৫৬৪ কোটি টাকা সংগ্রহীত হয়েছে। যা গত কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটাই বেশি।
রাজ্য অর্থ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে জিএসটি আদায়ের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৮২ কোটি টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়েছে ৪৮২ কোটি টাকা। নতুন সরকারের দ্বিতীয় মাসেই এই বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত। শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, মাত্র ১০ সপ্তাহে তাঁর সরকারের আয় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে সরকারি কোষাগারের উপর চাপ কমবে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। অর্থ দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, কর সংগ্রহে স্বচ্ছতা আনতে এবং ভুয়ো বিল বা ইনভয়েসের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিএসটি সংগ্রহ বাড়া শুধু কর আদায়ের সাফল্য নয়, এটি বাজারে ভোগব্যয়, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং শিল্পোৎপাদনের গতিও নির্দেশ করে। ফলে জুলাইয়ের পরিসংখ্যান রাজ্যের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। সরকার বদলের পর বিনিয়োগের পরিবেশেও আস্থার সঞ্চার হয়েছে বলেও মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
রাজ্যের নিজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস জিএসটি। এই রাজস্ব থেকেই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়। ফলে জিএসটি আদায়ের এই ঊর্ধ্বগতি সরকারের আর্থিক সক্ষমতা আরও মজবুত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সামনেই দুর্গাপুজো-সহ উৎসবের মরশুম। সেই সময় বাজারে কেনাকাটা ও বাণিজ্যিক লেনদেন আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা। তাই আগামী মাসগুলিতে জিএসটি সংগ্রহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে আশাবাদী প্রশাসন ও অর্থনৈতিক মহল।




