হাওড়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ছক, পাকিস্তানি যোগ, হানি ট্র্যাপ চক্র এবং বিদেশি ফান্ডিং-সহ একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পাকিস্তান যোগের একাধিক সূত্র মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে এসটিএফ (STF)।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিম একাধিক ভুয়ো হ্যান্ডেলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত। ‘রানা’, ‘আবির’, ‘শেহেজাদ’, ‘ভাট্টি গ্যাং’ এবং ‘হাবিব’ নামে বিভিন্ন হ্যান্ডেল ব্যবহার করে তার যোগাযোগ চলত বলে অভিযোগ। ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামের মাধ্যমেও কথাবার্তা হত। সেই যোগাযোগের পিছনে পাকিস্তানি যোগ রয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।
এর আগেই পুলিশ তদন্তে হামিমকে জেরা করে তাঁর প্রেমিকা অর্পিতা সরকারের বিষয়ে জানতে পেরেছিল। এরপরে তদন্তকারীরা জানতে পারে হামিমের সঙ্গে অর্পিতার প্রেমকাহিনীর কথা। গত চার বছর ধরে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ ছিল। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি এসটিএফের। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অর্পিতাকে কাজে লাগিয়ে এক মন্ত্রীর ছেলেকে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলারও চেষ্টা করা হয়েছিল।
এসটিএফের দাবি, হামিমের মূল কাজ ছিল হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করা। সেই সঙ্গে একটি নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তান থেকেই হামিমের কাছে নতুন গ্যাং তৈরির নির্দেশ আসত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামিমের সঙ্গে আইএসআই (ISI)-এর যোগাযোগ ছিল বলে তাঁদের হাতে তথ্য এসেছে। সেই সঙ্গে অর্পিতা সরকারের সঙ্গেও ISI-যোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই গোটা চক্রে বিদেশি অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা জানতে হামিমের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘পিলখানা’ থেকে ‘রেনেসাঁ’ পর্যন্ত অর্থের গতিপথের উৎস অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও হামিমের কাছ থেকে যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকোর সিম কার্ড ব্যবহারের তথ্যও মিলেছে বলে এসটিএফ (STF) সূত্রের দাবি।
যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। STF-এর দাবি অনুযায়ী একাধিক তথ্য সামনে এলেও, আদালতে সেগুলির প্রমাণ উপস্থাপন ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া এখনও বাকি। তদন্তকারীরা গোটা নেটওয়ার্ক, বিদেশি ফান্ডিং এবং সম্ভাব্য পাকিস্তানি যোগের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন।
উল্লেখ্য, এসটিএফ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেপ্তার করে কুখ্যাত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে বসবাস করছিল এই সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর জঙ্গি হামিম মণ্ডল। ধৃত হামিমের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি এবং সূচি। শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় ডিটেইলস মিলেছে ওই জইশ জঙ্গির কাছ থেকে। কোন জেলায় কবে মুখ্যমন্ত্রী যাবেন তার তথ্যও রয়েছে হামিমের কাছে। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ছক কষা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় জড়িত সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ হামিম মণ্ডল এখানে নাশকতা ঘটাতে চেয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।




