• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 30 July, 2026

কেন নিজের খরচে গ্লাসগোয় গিয়েছেন নীরজের কোচ? ফাইনালে উঠে কী বললেন জ্যাভলিন তারকা?

শুধু ঠান্ডাই নয়, প্রবল বাতাসও ছিল। বাতাস সামনের দিক থেকে আসছিল না, বারবার দিক বদলাচ্ছিল। কখনও পাশ থেকে বইছিল, ফলে কোথায় জ্যাভলিন ছুড়ব, সেটা বোঝাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক সময় মনে হচ্ছিল, ‘ঠিক আছে, ওদিকে ছুড়ব’, কিন্তু হঠাৎই বাতাস অন্য দিক থেকে বইতে শুরু করে। আজ অনেক প্রতিযোগীই সমস্যায় পড়েছে।

কেন নিজের খরচে গ্লাসগোয় গিয়েছেন নীরজের কোচ? ফাইনালে উঠে কী বললেন জ্যাভলিন তারকা?

Photo: X

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে নীরজ চোপড়ার পাশে দেখা গেল তাঁর ব্যক্তিগত কোচ জয়বীর চৌধুরিকে। তবে ভারতীয় দলের সঙ্গে নয়, সম্পূর্ণ নিজের খরচে স্কটল্যান্ডে গিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোয়ের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নীরজকে নির্দেশ দিতে দেখা যায় জয়বীরকে। কোচদের নির্দিষ্ট আসনে ভারতের প্রধান অ্যাথলেটিক্স কোচ রাধাকৃষ্ণন নায়ারের পাশে দেখা যায় তাঁকে। ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা (আইওএ) বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁর অ্যাক্রেডিটেশন এবং মাঠে প্রবেশের অনুমতি করে দেয়।

কিন্তু কেন তাঁকে নিজের খরচে গ্লাসগো যেতে হল? ক্রীড়ামন্ত্রকের অনুমোদিত ভারতীয় প্রতিনিধিদলের তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় সরকারি খরচে যাওয়ার সুযোগ পাননি নীরজের দীর্ঘদিনের এই কোচ।

ভারতের ৩২ সদস্যের অ্যাথলেটিক্স দলের সঙ্গে গ্লাসগোয় গিয়েছেন পাঁচজন কোচ, দু’জন ফিজিও, একজন চিকিৎসক এবং দুই মেডিক্যাল সাপোর্ট স্টাফ। কিন্তু সেই তালিকায় জায়গা হয়নি জয়বীর চৌধুরির। ভারতীয় দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বিয়েনে নীরজের প্রস্তুতি শিবির থেকেই নিজের খরচে গ্লাসগোয় উড়ে এসেছেন তিনি।

সূত্রের বক্তব্য, ‘জয়বীর নিজের খরচেই এসেছেন। ক্রীড়ামন্ত্রকের অনুমোদিত প্রতিনিধি দলের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। তবে ভারতীয় অলিম্পিক্স সংস্থা তাঁর অ্যাক্রেডিটেশন এবং ফিল্ড অব প্লে-তে প্রবেশের ব্যবস্থা করেছে’।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, চলতি বছরের শুরুতেই ক্রীড়ামন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ব্যক্তিগত কোচদের সরকারি প্রতিনিধিদলের অতিরিক্ত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এমনকী, সরকারের কোনও আর্থিক ব্যয় না হলেও নয়। যদিও কোনো কোচের অবদান ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বিবেচনা করা হতে পারে, তবুও অনুমোদিত কোটার বাইরে তাঁকে দলে রাখা যাবে না। সেই নীতির জেরেই নিজের খরচে শিষ্যের পাশে দাঁড়াতে হয়েছে জয়বীর চৌধুরিকে।

এদিন, প্রতিকুল পরিবেশের জন্য কোনও প্রতিযোগীই সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের নির্ধারিত দূরত্বে বর্ষা ছুঁড়তে পারেননি। তবুও সেরা ১২ জনের মধ্যে থেকে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেন নীরজ। তাঁর সেরা থ্রো ছিল ৭৯.৬১ মিটার, যা তাঁকে পঞ্চম স্থানে রাখে। ভারতের রোহিত যাদব (৭৮.৩৭ মিটার) এবং যশবীর সিং (৭৮.৩৬ মিটার)-ও যথাক্রমে নবম ও দশম হয়ে ফাইনালে ওঠেন। ফলে পদকের লড়াইয়ে ভারতের তিন জ্যাভলিন থ্রোয়ারই অংশ নেবেন।

ফাইনালে ওঠার পর নীরজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুবই খুশি। যোগ্যতা অর্জন পর্বে এটাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য। আবহাওয়া খুব ঠান্ডা ছিল, সঙ্গে প্রবল হাওয়াও বইছিল। তবুও প্রায় ৭৯ মিটার থ্রো করতে পেরেছি, যা মোটের ওপর ভালোই। লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ওঠা, তারপর সেখানে নিজের সেরাটা দেওয়া। তাই এই থ্রো নিয়ে আমি সন্তুষ্ট’।

ইভেন্টের সময় স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়ে নীরজ বলেন, ‘জ্যাভলিন থ্রোয়ারদের জন্য আজকের পরিস্থিতি মোটেই আদর্শ ছিল না। শুধু ঠান্ডাই নয়, প্রবল বাতাসও ছিল। বাতাস সামনের দিক থেকে আসছিল না, বারবার দিক বদলাচ্ছিল। কখনও পাশ থেকে বইছিল, ফলে কোথায় জ্যাভলিন ছুড়ব, সেটা বোঝাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক সময় মনে হচ্ছিল, ‘ঠিক আছে, ওদিকে ছুড়ব’, কিন্তু হঠাৎই বাতাস অন্য দিক থেকে বইতে শুরু করে। আজ অনেক প্রতিযোগীই সমস্যায় পড়েছে। কেউই সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের নির্ধারিত মান স্পর্শ করতে পারেনি। পরিস্থিতি সত্যিই কঠিন ছিল। তবে আমরা খুশি যে ভারতের তিনজন অ্যাথলিটই ফাইনালে উঠতে পেরেছি’।