বারুইপুর এনকাউন্টার কাণ্ড নিয়ে এবারে জেলা পুলিশের থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন অভিযুক্তকে ঘটনার পুননির্মাণের জন্য গভীর রাতেই নিয়ে যেতে হয়েছিল? সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল? সেই সব বিস্তারিত ভাবে লিখে হলফনামা জমা করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ১৮ জুলাই এই ঘটনার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তার আগে এই হলফনামা জমা করতে হবে পুলিশকে।
বারুইপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার মধ্যে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল গুলিতে নিহত হন। গ্রেফতারির দিন কয়েক পরে ঘটনা পুননির্মাণ করার জন্য গভীর রাতে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময়ে তিনি পুলিশের হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালান। পাল্টা আত্মরক্ষার্থে গুলি করে পুলিশ। আর তাতে তার মৃত্যু হয়। সেই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মামলা করেছিলেন একজন। সেই মামলার সওয়াল করছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে দাবি করেন, পুলিশি নিরাপত্তা যথাযথ থাকলে অভিযুক্তের পক্ষে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না। পুলিশের বর্ণনা ‘মনগড়া’ বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদ্বীপ মজুমদার আদালতে জানান, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোটা ঘটনার তদন্ত বর্তমানে সিআইডির তত্ত্বাবধানে চলছে এবং নিয়ম মেনে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহালও সম্পন্ন হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই মামলায় দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ-সহ জেলা পুলিশ সুপারের রিপোর্ট হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে।
বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছিল গোটা বাংলা। এই ঘটনায় সেখানকার পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছিল যে একজন নিরপরাধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাশাপাশি এই ঘটনায় হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া গুজব ছড়ানো যাতে না হয়, তা নিয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।




