মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির অষ্টম দিনে ফের নানা সমস্যার সমাধানের আশায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমালেন। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে স্বাস্থ্য ভবনের পাশে রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত অভিযোগ, চিকিৎসা, বদলি, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ— একাধিক ইস্যু উঠে আসে।
দিনের শুরুতেই মালদার মোথাবাড়ি থেকে আসা মনোরঞ্জন মণ্ডল অভিযোগ করেন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ধর্মান্তরিত হলে অর্থের প্রলোভনও দেওয়া হয়েছে। মনোরঞ্জনের আরও অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, এলাকায় হিন্দুদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানান তিনি। তবে এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা নিয়েও একাধিক অভিযোগ ওঠে জনতার দরবারে। এক নিহত বিজেপি কর্মীর বাবা দাবি করেন, তাঁর ছেলে সুমন মণ্ডল ২০১২-১৩ সাল থেকে বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং মণ্ডল সভাপতির দায়িত্বও সামলাতেন। বিজেপি করার কারণেই তাঁকে বারবার হুমকি ও মারধরের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ রাতে তাঁকে খুন করা হয়। ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত ন্যায়বিচার মেলেনি বলেই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
কৃষ্ণনগরের আশ্রমপাড়ার এক বাসিন্দাও জনতার দরবারে এসে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবি জানান। পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যাসিড হামলার পর তাঁদের মেয়ের মৃত্যু হলেও পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করে। এমনকি বয়ান বদলের জন্য চাপও দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান পরিবারের সদস্যেরা।
স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যাও উঠে আসে এ দিনের জনতার দরবারে। সুন্দরবন থেকে আসা আরতি গুপ্তা জানান, তাঁর মেয়ে মনীষা গুপ্তার ২০২৩ সালে হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন এসএসকেএম-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার চেষ্টা করেও স্থায়ী সমাধান না মেলায় শেষ ভরসা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছেন তিনি।
সরকারি কর্মীদের বদলি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পেশায় নার্স মহুয়া মাইতি। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে ভয় দেখিয়ে তাঁকে বদলি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন আবেদন জানিয়েও বদলির ক্ষেত্রে কোনও সুরাহা হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে সুবিচারের আশা নিয়েই তিনি জনতার দরবারে হাজির হয়েছেন।
পঞ্চায়েত দপ্তরের অস্থায়ী কর্মীরাও এ দিন স্থায়ীকরণের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কাজ করলেও পূর্বতন সরকারের আমলে স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে সেই সমস্যার সমাধান এবং চাকরির স্থায়ীকরণের দাবি জানান তাঁরা।
জনতার দরবারে আসা অধিকাংশ আবেদনকারীই প্রশাসনিক জটিলতা, চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলা বা চাকরি সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি।






