প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোন আইন আনার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোমবার লোকসভায় পেশ হল ‘পাবলিক এগজামিনেশন(প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্টমেন্ট বিল, ২০২৬’। বিলটি পেশে করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
তবে বিল পেশের দিনই প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয় বিরোধীরা। অধিবেশন শুরু হতেই লোসভা ও রাজ্য সভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতির জেরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উভয় কক্ষের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পরে অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই সংশোধনী বিলটি পেশ করা হয়। এরপর আবারও অধিবেশন দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।
বিলটি নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। দলের সাংসদ গৌরব গগৈর অভিযোগ, এটি শুধুই লোকদেখানো পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং শুধু কঠোর আইন করলে সমস্যার সমাধান হবে না।
সংসদের ভিতরের পাশাপাশি বাইরে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদেরাও বিক্ষোভে সামিল হন। সংসদ চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।
এদিকে, বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের জেরে সংসদের কাজ ব্যাহত হয়।
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিবেশন স্থগিত থাকার সময় সংসদ ভবনেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সংসদের অচলাবস্তা এবং বিলের পরবর্তী কৌশল নিয়েই ওই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিলটি পেশ হওয়ার পর সাংসদদের কাছ থেকে সংশোধনের প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সদস্যদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের মতামত জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বিল নিয়ে পর্যাপ্ত সময় ধরে আলোচনা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে ককরোচ জনতা পার্টি এবং ছাত্র-যুবাদের আন্দোলনের জেরে কঠোর আইন আনার কথা জানিয়েছিল কেন্দ্র। এই সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে কঠোর বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।




