• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 23 July, 2026

সিকিমে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ল ২২, চলছে উদ্ধারকাজ

এখনও টানেলের ভিতরে আটকে থাকা নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী সংস্থা

সিকিমে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ল ২২, চলছে উদ্ধারকাজ

Image: ANI

সিকিমের তিস্তা স্টেজ ৬ প্রকল্পের টানেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২-এ। এখনও টানেলের ভিতরে আটকে থাকা নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী সংস্থা। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত চলে উদ্ধার অভিযান। রাত প্রায় ১০টা নাগাদ আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। টানেলের ভিতরে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও উদ্ধারকর্মীরা মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যান। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানেল থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা ২২-এ পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে সিকিমের অন্যতম ভয়াবহ  দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চলছে।

টানেলের ভিতর জমে থাকা জল বের করা এবং উদ্ধারকাজের গতি বাড়াতে বুধবার ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (এনএইচপিসি) বিশেষ উদ্ধারকারী দল গঠন করে। এই দলে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), মাইনস সেফটি বিভাগের উদ্ধারকারী কর্মী এবং নির্মাণ সংস্থার প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়। রাতভর অভিযান চালিয়ে টানেলের ভিতর প্রবেশের উপযোগী পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও করা হয়। ইতিমধ্যেই টানেলের জল বের করার জন্য পাম্প চালু করতে সচেষ্ট হয় উদ্ধারকারী দল।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং-এর ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হেড রেস টানেল-এ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযানে যৌথভাবে অংশ নিয়েছে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, এনএইচপিসি, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড এবং ওয়েস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড। এনএইচপিসি-র শীর্ষ কর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার অভিযান তদারকি করছেন।

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য এককালীন ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে এনএইচপিসি। এদিকে, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় কী ধরনের গাফিলতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। তদন্তে যদি নির্মাণকারী সংস্থার কোনও অবহেলা বা দায় প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্দে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্ধারকাজ এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বলেও জানা গিয়েছে।