নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে লোকসভায় পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় রাজি হল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই বিতর্কের আয়োজনের আর্জি জানান। আলোচনার দিনক্ষণ নির্ধারণের দায়িত্ব স্পিকারের উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির সাংসদ অভিযান ঘিরে দিল্লিতে ধুন্ধুমার অবস্থা তৈরি হয়েছিল। দিল্লি-সহ একাধিক শহরে আন্দোলন, প্রতিবাদ ও ধর্না চলে। একই ইস্যুতে সংসদের ভিতরেও বিরোধীদের বিক্ষোভে বারবার অধিবেশন ব্যাহত হয়েছে। সম্প্রতি বিরোধীরা রাজ্যসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার দাবি করেছিলেন। সরকার বিরোধী স্লোগান ও হইহল্লা শুরু হলে স্পিকার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন।
অন্যদিকে, লোকসভায় বিরোধী দলের নেতারা নিট প্রশ্নফাঁস ও রামমন্দিরে অনুদান চুরি নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। সেখানেও স্পিকার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। মঙ্গলবার দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা ধর্নায় বসেন। এরপর দিল্লি পুলিশ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতাকে আটক করে। তাঁদেরকে প্রায় ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পরে মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ছেড়ে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের বিতর্কে সম্মতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিরোধীরা এখনও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং প্রশ্নফাঁসের দায় নির্ধারণের দাবি থেকে সরে আসেনি। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিট-কাণ্ড নিয়ে লোকসভায় আনুষ্ঠানিক বিতর্কের পথ প্রশস্ত হল।




