রাজ্য বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পরিবহন দপ্তরের বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অতীতের নানা অনিয়ম নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট রাজের কারণে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, নিরাপদ এবং জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, বহু সরকারি ও বেসরকারি বাস দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় নামেনি। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার নতুন করে বিপুল সংখ্যক বাস রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই শতাধিক নতুন বাস সংগ্রহের কাজ চলছে এবং ধাপে ধাপে আরও বাস পরিষেবা চালু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবহন ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে পরিবহণ দপ্তরে ব্যাপক অনিয়ম, অবৈধ লেনদেন এবং সিন্ডিকেট চক্র গড়ে উঠেছিল। অবৈধ টোটো, অনুমতিহীন গাড়ি, বেআইনি পরিবহণ এবং দালালচক্রের কারণে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, এই সমান্তরাল অর্থনীতিকে ভেঙে দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযান শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে। যাঁরা এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি।
পরিবহনমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এখনও হাজার হাজার যানবাহন যথাযথ নথিভুক্ত নয়। সম্প্রতি বিশেষ অভিযানে এক রাতেই কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। আরটিও অফিসগুলিতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও রকম হয়রানির শিকার না হন, সেই লক্ষ্যে স্বচ্ছ পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি বাস পরিষেবার সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চালকের অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে যত সংখ্যক বাস চালানোর প্রয়োজন, তার তুলনায় চালকের সংখ্যা অনেক কম। নতুন চালক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাসগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না হয়।
তিনি আরও জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আধুনিক বাস টার্মিনাল ও বাস ডিপো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে যাত্রীদের জন্য উন্নতমানের অপেক্ষাকক্ষ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, পানীয় জলসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো থাকবে। পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি বদলে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে অর্জুন সিং বলেন, পরিবহণ শুধু একটি দপ্তরের বিষয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সকলের সহযোগিতায় স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সরকারের লক্ষ্য মানুষের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ ব্যবস্থাকে দেশের অন্যতম সেরা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।