পশ্চিমবঙ্গের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সমন্বিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তর ডিজিটাল পরিবহণ প্ল্যাটফর্ম ‘যাত্রী সাথী’-র সঙ্গে ‘সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’ (ভারত ট্যাক্সি)-এর মধ্যে একটি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলির উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার সমবায় ভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এগোতে চলেছেন বাংলার ট্যাক্সি চালকরা। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ভারত ট্যাক্সি’ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে রাজ্যের চালকরা। যার মূল লক্ষ্য, চালকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া এবং অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলির কমিশন নির্ভর ব্যবস্থার বাইরে এনে তাঁদের আরও বেশি উপার্জনের সুযোগ তৈরি করা।
সরকারি সূত্রে খবর, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘যাত্রীসাথী’ এবং ‘ভারত ট্যাক্সি’-র পরিষেবার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। কো-ব্র্যান্ডিং, প্ল্যাটফর্ম ইন্টারঅপারেবিলিটি এবং উভয় প্ল্যাটফর্মের নানা ফিচার একত্রিত করে যাত্রীদের আরও সহজ, দ্রুত এবং উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কলকাতায় এই উদ্যোগ নিয়ে চুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘ভারত ট্যাক্সি’ বাজারে উপলব্ধ অন্যান্য অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবার মতো হলেও এটি সম্পূর্ণ পৃথক। এটি একটি সমবায় সংস্থা। এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে জিরো কমিশন ব্যবস্থা। সুতরাং চালকের উপার্জনের বড় অংশ কোনও কমিশন ফি হিসেবে কেটে নেবে না। পুরো রোজগারই যাবে চালকের পকেটে।
রাজ্যজুড়ে এই পরিষেবার পরিধি বাড়াতে ধাপে ধাপে মোটরবাইক, ট্যাক্সি এবং অটো-রিকশা পরিষেবাকেও এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার ফলে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নানা ধরনের গণপরিবহণ পরিষেবা পাওয়া আরও সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। আর রাজ্য সরকারের বক্তব্য, প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য আরও দক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং সহজলভ্য গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তাছাড়া এই উদ্যোগে যুক্ত চালকদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা, জীবন বিমা, দুর্ঘটনাজনিত সহায়তা এবং অবসরকালীন সঞ্চয়ের মতো একাধিক সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই সমঝোতা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য, রাজ্যের পরিশ্রমী চালকদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি করা। যাত্রী সাথীর সঙ্গে যুক্ত চালকদের কো-অপারেটিভ সদস্যপদ এবং নানা কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। এই নতুন ব্যবস্থায় উপকৃত হবেন যাত্রীরাও। যাত্রীদের জন্য আরও স্বচ্ছ ভাড়া ব্যবস্থা এবং উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলিতে বৃষ্টি, ব্যস্ত সময় অথবা যানজটের সময় যে অতিরিক্ত সারচার্জ যোগ হয়, ‘ভারত ট্যাক্সি’-তে সেসব দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে কলকাতা-সহ বাংলার শহরগুলিতে ট্যাক্সি পরিষেবায় নতুন পরিবর্তন আসবে।




