• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 17 July, 2026

বিরোধী দলনেতা নিয়ে টানাপোড়েন, স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ—রায়দান স্থগিত রাখল ডিভিশন বেঞ্চ

বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে

বিরোধী দলনেতা নিয়ে টানাপোড়েন, স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ—রায়দান স্থগিত রাখল ডিভিশন বেঞ্চ

Image: SNS

বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া  মামলার শুনানি শেষ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছে। শুনানিতে বিচারপতি জানতে চান, স্পিকার কবে প্রথম সংশ্লিষ্ট চিঠি পেয়েছিলেন? স্পিকারের পক্ষে আতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, ৯ মে যে চিঠি জমা পড়ে, তখনও স্পিকার নির্বাচিত হননি। ১৫ মে স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ১৮ মে প্রথমবার ওই চিঠির জবাব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চিঠিতে সর্বসম্মত প্রস্তাবের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এমন কোনও প্রস্তাব ছিল না। ১৯ মে-র একটি নথিরও উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনও নীরবতা ছিল না।

বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন করেন, ৯ মে-র পর প্রথম যোগাযোগ কবে হয়েছিল? জবাবে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, ১৮ মে প্রথম যোগাযোগ হয়। এরপর ২৭ মে অভিযোগ দায়ের হয় এবং ২৮ মে ৫৮ জন বিধায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানিয়ে তাঁদের বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করেন। বিচারপতি আরও জানতে চান, ৬ জুন কোনও পদক্ষেপ হয়নি? জবাবে স্পিকারের আইনজীবী বলেন, ‘ভুয়ো বক্তব্য কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

স্পিকারের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষেত্রে সংবিধানের দশম তফসিলের কোনও প্রয়োগ নেই, কারণ সবাই একই রাজনৈতিক দলের সদস্য।এ সময় বিচারপতি বলেন, ‘আপনারাও বলছেন, মিস্টার করও বলছেন—এখানে দশম তফসিল প্রযোজ্য নয়। তাহলে স্পিকার কীভাবে দশম তফসিলের ভিত্তিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন?’

স্পিকারের পক্ষে আরেক আইনজীবী জয়দীপ কর জানান, দলের চেয়ারম্যান পরাজিত হওয়ায় এখন বিধায়করাই নিজেদের মধ্যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে পারেন। পাশাপাশি দাবি করা হয়, ৫৮ জন বিধায়ক আবেদনপত্রে সই করেছিলেন এবং তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত বলেও আদালতে যুক্তি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্য পক্ষের জমা দেওয়া চিঠিটি “জালিয়াতিপূর্ণ” ।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা জানান, ২০ মে তাঁদের পক্ষ থেকেও ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার কোনও উত্তর মেলেনি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৩ জুন স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা জনসমক্ষে বা বিধানসভার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘সিঙ্গল বেঞ্চে শুনানির সময় স্পিকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের কপি জমা দেওয়া হয় এবং তখনই আমরা তার কপি পাই। এতদিন তা স্পিকারের কাছেই ছিল। এখনও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। সবকিছু অন্ধকারে রাখা হয়েছে কেন?’

এই পরিপ্রেক্ষিতে  বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘বিধানসভার সব সিদ্ধান্তই যে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।’ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের আবেদন ঝুলিয়ে রেখে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা প্রকাশ না করার মধ্যে বিদ্বেষ রয়েছে। তিনি সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ এবং স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানান। পাশাপাশি জানান, অযোগ্যতা সংক্রান্ত বিষয়টিও এখনও বিচারাধীন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী যিষ্ণু চৌধুরী আদালতে বলেন, বিরোধী দলনেতার এমন ব্যক্তিই হওয়া উচিত, যাঁর বিধায়কদের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব রয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শুনানি শেষ করে রায়দান স্থগিত রাখা হয়। আগামী সপ্তাহে রায়ের সম্ভাবনা।