• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 17 July, 2026

মুর্শিদাবাদের ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ এবং আহতদের আড়াই লক্ষ টাকার ঘোষণা রেলের

মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তদন্তে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করল রেল

মুর্শিদাবাদের ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ এবং আহতদের আড়াই লক্ষ টাকার ঘোষণা রেলের

Image: SNS

মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তদন্তে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করল  রেল। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকরিকরা। দুর্ঘনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের আড়াই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা থাকায় দ্রুতগতিতে আসা নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন একটি পুলকার এবং এক আরোহীকে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে জেসিকা ইয়াসমিন (৯), ফারহানা সুলতানা (৬) এবং জামশেদ আলির (৬৫)। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে কেবিনের ভিতরে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়। পরে বহরমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন রেলের আধিকারিকরা। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের রেলপথে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। সঠিক সিগন্যাল মেনেই নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি চলছিল। তাঁরি দাবি, ইন্টারলকিং গেট পরিচালনার দাতিত্বে থাকা গেটম্যান এবং সুপারভাইজারের গাফিলতির ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দু’জনকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি বহরমপুর থানার পুলিশ গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে রেলের ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেটম্যান প্রায়ই মদ ও গাঁজার নেশায় আচ্ছন্ন থাকতেন। সেই ভাবেই কাজ করতেন। তাঁদের দাবি, অনেক সময় গেট বন্ধ করার পর তা খুলতে ভুলে যেতেন। ফলে ঘণ্টার ঘণ্টা লেভেল ক্রসিং বন্ধ থাকত। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হতো। অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গ্রেপ্তারের সময়ও গেটম্যানকে দেখে নেশাগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছিল বলে দাবি অনেকের। গেট খোলা থাকার কারণ জানতে একাধিক প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।