• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 16 July, 2026

রাণীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পিতলের রথের দড়িতে টান রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও বিধায়কদের

প্রাচীনকালের চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনের যে সকল সামগ্রী থাকত সে সকল সামগ্রী প্রতিবছর নিয়ম করে এই রথের মেলায় পসরা সাজিয়ে বসা হয়। এর পাশাপাশি মেলাতে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সামগ্রীও থাকে। সেই মেলায় মহিলাদের বিভিন্ন প্রসাধনের ও সাজগোজের সামগ্রী-সহ বিভিন্ন গাছের চারা ও আচারের দোকান রাখা হয়।

রাণীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পিতলের রথের দড়িতে টান রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও বিধায়কদের

Photo: Statesman

১০৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পিতলের রথের দড়ি টানলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও দুই বিধায়ক। এবারেও এই ঐতিহ্যবাহী পিতলের রথের দড়ি টানতে হাজারো ভক্ত নতুন রাজবাড়ী থেকে রথ নিয়ে গেল পুরনো রাজবাড়িতে। এদিন রাণীগঞ্জের প্রাচীন পিতলের রথের দড়ি টানাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতন। জানা গিয়েছে, রাণীগঞ্জের দীর্ঘ প্রাচীন এই পিতলের রথের মেলা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষের সমাগম ঘটে।

এই রথের মেলা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, পিতলের এই রথ এবার ১০৩ তম বছরে পর্দাপণ করল। প্রাচীনকালে সিয়ারশোল রাজ পরিবারের এই রথ নিয়ে লোকমুখে অনেক কথাই শোনা যায়। শোনা যায়, ১৯২৫ সালের আগে পর্যন্ত পুরীর জগন্নাথ দেবের রথের আদলে কাঠের রথ টানা হত পুরনো রাজবাড়ী থেকে নতুন রাজবাড়ী পর্যন্ত। পরে সেই রথ উৎসব শেষে রাজ পরিবারের একটি হল ঘরে রাখা হত।

সিয়ারশোল রাজ পরিবারের সেই রথ কোন কারণে আগুন লেগে পুড়ে যায়। তারপরই সিয়ারসোলের রাজ পরিবারের সদস্য প্রমথনাথ মালিয়া কলকাতার চিৎপুরের প্রসাদ চন্দ্র দাসকে দিয়ে পিতলের রথ তৈরি করান। যে রথের চারপাশে রামায়ণ-মহাভারতের বিভিন্ন দেবী-দেবতার লীলার বিষয় তথা কৃষ্ণ লীলার নানান কাহিনী মূর্তির আদলে তুলে ধরে তা রথে স্থাপন করা হয়।

Raniganj Rath Yatra
Photo: Statesman

তবে এই রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার সঙ্গে রথের চূড়ায় অধিষ্ঠিত হন রাজ পরিবারের কুলদেবতা দামোদর চন্দ্র জিউ। আগে এই রথ পুরনো রাজবাড়ি থেকে নতুন রাজবাড়ি নিয়ে আসা হলেও, বিগত কয়েক বছর ধরে সুবিশাল এই রথটিকে নতুন রাজবাড়ী থেকে পুরনো রাজবাড়ী নিয়ে আসার চল শুরু হয়েছে। মূলত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ও রথের মধ্যে থাকা মূল্যবান মূর্তি যাতে কেউ চুরি করে না নিয়ে যায় সেই বিষয়টি নজরে রেখে বছরভর খোলা আকাশের নিচে নতুন রাজবাড়ীর সামনে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয় রথটি।

পুরীর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার সময় কাল থেকেই এখানেও এই রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। আর এই রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রাচীনকালের চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনের যে সকল সামগ্রী থাকত সে সকল সামগ্রী প্রতিবছর নিয়ম করে এই রথের মেলায় পসরা সাজিয়ে বসা হয়। এর পাশাপাশি মেলাতে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সামগ্রীও থাকে। সেই মেলায় মহিলাদের বিভিন্ন প্রসাধনের ও সাজগোজের সামগ্রী-সহ বিভিন্ন গাছের চারা ও আচারের দোকান রাখা হয়। আর এসবের সঙ্গে নাগরদোলা-সহ নানাবিধ খাবার দোকানের স্টলও রাখা হয়। জানা গিয়েছে, ১৫ দিন ধরে এই মেলা চলবে।

এবারের এই মেলায় হাজির হয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও অজয় পোদ্দার। তাঁরা জানান, রাজ্যের বর্তমান সময়ে সনাতনী ধর্মের প্রচার ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ আজ প্রাণ খুলে সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে। সেই সঙ্গে এই পিতলের রথ প্রসঙ্গেও তাঁরা গর্ব অনুভব করেন।