৮৫ মিনিট পর্যন্ত সব কিছুই ছিল ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। সামনে ছিল বিশ্বকাপের ফাইনালের হাতছানি। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে সব বদলে গেল। এনজো ফার্নান্দেজের সমতা ফেরানো গোল এবং অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। আর সেই হারের পর থেকেই প্রশ্নের মুখে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল।
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর টুখেল একের পর এক রক্ষণভাগের ফুটবলার নামিয়ে পাঁচ জনের ডিফেন্স গড়ে তোলেন। উদ্দেশ্য ছিল শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রাখা। কিন্তু সেই পরিকল্পনাই বুমেরাং হয়ে যায়। বলের দখল পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। একের পর এক আক্রমণের চাপে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ।
ম্যাচের পর টুখেল অবশ্য নিজের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করেছেন। কঙ্গো, মেক্সিকো এবং নরওয়ের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তোলার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়া এবং একের পর এক বদলি করায় এখন তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে।
জার্মান কোচ বলেন, ‘ফুটবল এমনই একটা খেলা। আপনি হারলেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এটাই স্বাভাবিক। হারের পর সমালোচনা হবেই। আপনি যদি অন্য সিদ্ধান্ত নিতেন, তা হলে কী হত, সেটা কেউ জানে না। তাই এসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ে নিজের ভারসাম্য হারানোর কোনও মানে হয় না। সিদ্ধান্তগুলো আমিই নিয়েছি, তাই দায়িত্বও আমার। সমালোচনাও আমাকেই মেনে নিতে হবে’।
এখন ইংল্যান্ডের সামনে রয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সান্ত্বনা-পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে তারা। তবে টুখেলের মতে, এই মুহূর্তে সেমিফাইনালে ওঠার সাফল্য নিয়ে গর্ব করার সময় নয়। তিনি বলেন, ‘অনেক বড় বড় ফুটবল শক্তি সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে। সেই দিক থেকে দেখলে এটা অবশ্যই একটা সাফল্য।কিন্তু এই মুহূর্তে কেউই এসব শুনতে চায় না। আমিও না। কারণ আমরা নিজেদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করি’।
টুখেলের কথায়, ‘আমাদের কোনও ফুটবলারই এই ম্যাচ (তৃতীয় স্থান নির্ধারক) খেলতে চায় না। ফ্রান্সের ফুটবলাররাও চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল। আমরা ফাইনালে ওঠার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেক দলই বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়েই নামে। কিন্তু এটাই বাস্তব’।
তবে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশ টুখেলের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, ম্যাচের অনেকটা সময় বাকি থাকতেই দলকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক করে দেওয়ায় আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ওয়েন রুনির অভিযোগ, ইংল্যান্ড অকারণেই প্রতিপক্ষকে চাপ তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে। অন্য বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, ইংল্যান্ডের উচিত ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখা।
হারের পর হতাশা লুকিয়ে রাখেননি জুড বেলিংহ্যামও। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের অত্যন্ত দুঃখের দিন। আমরা ভাল খেলেছি, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না’।




