উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে নেপালে ঢুকতে গিয়ে ধরা পড়ে এক মার্কিন নাগরিক জর্ডন ব্রাউন। তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেলেন তদন্তকারীরা। পুলিশি জেরায় ওই যুবক দাবি করেছেন, নেপালে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। তবে সেই বন্ধুর নাম, পরিচয় বা অন্য কোনও তথ্য তিনি দিতে পারেননি। এর ফলে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রাউন আরও দাবি করেছেন, বেঙ্গালুরুতে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে তিনি নিজের পাসপোর্ট রেখে এসেছিলেন। তার নাম ও ঠিকানাও জর্ডন বলতে পারেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, তিনি কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং ভারতে আসার আগে কোন কোন দেশে গিয়েছিলেন। এই তদন্তে ব্রাউনের মৌখিক বয়ানের থেকে ডিজিটাল তথ্য ও নথিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত শনিবার নেপালে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় উত্তরপ্রদেশ-নেপাল সীমান্তে টহলরত সশস্ত্র সীমা বল(এসএসবি)-এর জওয়ানরা ব্রাউনকে গ্রেপ্তার করে। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলার সানাউলি থানা এলাকা সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।
তদন্তে ব্রাউন জানিয়েছেন, প্রায় আট সপ্তাহ আগে তিনি ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে ভারতে এসেছিলেন। এর ছয় সপ্তাহ গোয়ায় কাটিয়ে সেখান থেকে উত্তরপ্রদেশের সানাউলিতে যান। তাঁর দাবি, গোয়ায় থাকার সময় এক নেপালি ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। সেই বন্ধুর সঙ্গেই দেখা করতে তিনি নেপালে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি এখনও পর্যন্ত ৭০টি দেশ ঘুরেছেন।
তবে গ্রেপ্তারের পর প্রথম দিকে ব্রাউনের বক্তব্য ছিল আলাদা। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, পর্যটন ভিসায় থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। এরপর থাইল্যান্ড থেকে জলপথে শ্রীলঙ্কায় যান গত গত বছরের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথে গোয়ায় পৌঁছন। তাঁর এই দাবি অনুসারে, তিনি আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ভারতে অবৈধভাবে আছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ব্রাউনের কাছ থেকে নগদ ৩১ হাজার ৪৬০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন ও বিদেশ শনাক্তকরণ আইনের ২১ এবং ২৩ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।




